সাবেক এমপি কালাম আজাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র খন্দকার শায়লা পারভীন এবং বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলামসহ আওয়ামী ও যুবলীগের ৮২ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার ( ১৭ আগস্ট) রাতে বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবদল সদস্য আবদুল মতিন বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মামলাটি করেন। তাহেরপুর পৌর যুবলীগের সদস্যসচিব সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করা হয়। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৬০ জনকে। এটি ৫ আগস্ট ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় হওয়া প্রথম মামলা।

মামলায় আবদুল মতিন উল্লেখ করেন, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে রামরামা গ্রামের যুবদল নেতা মুনসুর রহমানকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া এলাকায় পিটিয়ে জখম করার পর পায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে ফেলে রেখে চলে যান যুবলীগের নেতাকর্মীরা। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর তারা বিএনপির মিছিলে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারপিট করে এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটান।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র খন্দকার শায়লা পারভীন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হাটবাজারে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। এ ছাড়া ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মারপিট ও গুলি করে জখম করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর আছে।’