বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নাটোরে স্কুলশিক্ষার্থী ইয়াসিন ইসলামকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নাটোরের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রবিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নিহত ইয়াসিনের বাবা ফজের আলী নাটোর সদর থানায় এ মামলা করেন। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে নাটোরে সাবেক সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে সেখান থেকে চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যান ইয়াসিন ইসলাম।
মামলার এজাহারে ফজের আলী অভিযোগ করেন, তার ছেলে ইয়াসিন ইসলাম নাটোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়। ৪ আগস্ট সকালে ইয়াসিন শহরের মাদ্রাসা মোড়ে আন্দোলন করার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুকুমে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ অন্য আসামিরা তার ছেলেকে মারধর করেন। পরে তারা কান্দিভিটার শিমুলের বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখেন। পরদিন শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর পাওয়ার পর ইয়াসিন ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে আটকে রেখে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যান শফিকুল ইসলাম শিমুল। পরদিন সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দোতলার একটি কক্ষ থেকে ইয়াসিনের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এজাহার পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এজাহারে উল্লেখ করা অপর আসামিরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাটোর কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, সহসভাপতি ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, প্যানেল মেয়র আরিফুল ইসলাম মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলু, নাটোর কোর্টের জিপি আব্দুল মালেক শেখ, নাটোর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল ও জেলা যুবলীগ সভাপতি এহিয়া চৌধুরীসহ ১১১ জন।