রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গবেষক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, ‘ভারতকে পরিষ্কার ভাবে বুঝতে হবে, আমাদের অশান্তিতে রেখে ভারতের শান্তিতে থাকার কোনও সুযোগ নেই। নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বুঝতে হবে, সে কি শেখ হাসিনার বন্ধু হয়ে থাকতে চায়, নাকি বাংলাদেশের বন্ধু হয়ে থাকতে চায়। সে যদি শেখ হাসিনার বন্ধুত্বকে বেছে নেয়, তাহলে তার বাংলাদেশের জনগণের শত্রুতাকে বেছে নিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নদীর পানির হিস্যার দাবিতে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২০২৪-এ স্বাধীন বাংলাদেশের একটাই শক্তি আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের ছাত্রসমাজ আর কোনও ভারতপন্থার খবর নিতে চায় না। কোনও পাকিস্তানপন্থার খবর নিতে চায় না। আমাদের একটাই পন্থা, বাংলাদেশ পন্থা। এদেশের ১৭ কোটি মানুষ এখন বাংলাদেশপন্থী। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক শান্তির জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই সুসম্পর্ক হতে হবে দ্বিপাক্ষিক। মনে রাখতে হবে।’
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘ভারত এমন একটা রাষ্ট্র যার কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক নেই। মুসলিম, বৌদ্ধ এমনকি হিন্দু রাষ্ট্রের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক নেই। এই স্বৈরাচার সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রটি আমাদের শোষণ করে আসছে। তাদের অন্যতম শোষণের মাধ্যম হলো পানি বণ্টন। বুধবার রাত থেকে বাংলাদেশ মুখে তাদের যে বাঁধগুলো রয়েছে, তারা তা খুলে দিয়েছে। তারা ৩১ বছর পর এসব বাঁধ পরিকল্পিতভাবেই খুলেছে। রাজনৈতিকভাবে তারা না পেরে, এদেশকে ডোবানোর জন্য তাদের এই পদক্ষেপ। তাদের এই আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে আমাদের দেশপ্রেমিক তরুণ ছাত্রসমাজ ও আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশেও মোদি সমর্থিত শক্তি ছিল। তা আমাদের ছাত্রসমাজ প্রতিহত করেছে। বাংলাদেশে শুধু অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবেই ভারতের আগ্রাসন নয় বরং বিভিন্ন সমস্যায় ভারতীয় আগ্রাসন রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, মোদি সমর্থিত শক্তিকে যেমন আমরা বিতাড়িত করতে পেরেছি, তেমনি এই ভারতীয় আগ্রাসনকেও আমরা দমন করতে পারবো। বন্যা নিয়ে সব প্রকার রাজনীতি ভেঙে ফেলা হবে।’
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী সজিব বলেন, ‘আমরা যেহেতু বাঁচতে শিখেছি, আমরা বাঁচার মতোই বাঁঁচবো। ২৪-এর এই ছাত্রসমাজ ভারতের আধিপত্যকে মেনে নেবে না। আমরা যে অধিকারের জন্য মাঠে নেমেছি, সেই অধিকার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।’
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যান্য সমন্বয়কসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার মধ্যরাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।