ব্যবসায়ীকে গুমের অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জুয়েলারি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে তুলে নিয়ে গুমের অভিযোগে তার স্ত্রী নাইস খাতুনের করা মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার আমলী আদালতের বিচারক লিটন হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে র‌্যাব-৫ এর রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পে ২০১৬ সালে কর্মরত সাত জনকে অভিযুক্ত করে মামলার আবেদন করেন এই নারী। আদালত সেদিন মামলাটি আদেশের জন্য রেখে দেন। বৃহস্পতিবার সকালেই মামলা গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।

নাইসের আইনজীবী মাহমুদুর রহমান বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- র‌্যাব-৫ এর তৎকালীন রাজশাহীর রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শাহিনুর রহমান, এসআই দেবব্রত মজুমদার, দুলাল মিয়া, এএসআই কামাল হোসেন, ল্যান্স নায়েক মাহিনুর খাতুন, সিপাহী কহিনুর বেগম ও কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম।

মামলার বাদী নাইস খাতুনের বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী আলীপুর মহল্লায়। তার অভিযোগ, ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার স্বামী ইসমাইল হোসেনকে (৩০) উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড় থেকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যান। তিন দিন পর ইসমাইল অন্য এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর থেকে কল করে পরিবারকে জানান, তিনি র‌্যাবের হেফাজতে আছেন।

র‌্যাব সদস্যরা যখন ইসমাইলকে তুলে নিয়ে যান তখন অনেকেই দেখেছেন। এ ছাড়া মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি র‌্যাব ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় সেখানে ইসমাইলকে দেখেছেন। র‌্যাব ক্যাম্পে আগে থেকে থাকা এ দুই ব্যক্তিকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু ইসমাইলকে কোনও মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার খোঁজও মেলেনি।

ইসমাইল হোসেনের পরিবার এতদিন মনে করতেন, কথিত আয়নাঘরে ইসমাইলকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাই আওয়ামী সরকারের পতনের পর আয়নাঘর থেকে কেউ কেউ ফিরে এলে ইসমাইল হোসেনের ছোট ভাই ইউসুফ আলীও ঢাকায় ছুটে যান। গুমের শিকার অন্যদের স্বজনদের সঙ্গে তিনি কয়েকদিন ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করেন কথিত আয়নাঘরের সামনে। ইসমাইলের ছোট দুই সন্তানও অপেক্ষায় থাকেন বাবার। কিন্তু তাকে ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হয়েছে ইউসুফকে। এরপরই র‌্যাবের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হলো।