রাসিকের বরখাস্তকৃত মেয়র ও বিএনপি নেতা বুলবুল কারাগারে

নাশকতাসহ ৯টি মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র (সাময়িক বরখাস্ত) মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রায় এক বছর আত্মগোপনে থাকার পর রবিবার দুপুরে তিনি তিনটি আদালতে পৃথকভাবে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে একটি মামলায় জামিন ও আটটিতে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আলী আখতার মাসুম জানান, মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি নাশকতার, দুইটি সরকারি কাজে বাধা ও চারটি বিস্ফোরক আইনের মামলা।

তিনি আরও জানান, প্রথমে তার মক্কেল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার এ মামলায় গত ৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর তিনি মহানগর দায়রা জজ আদালতে চারটি মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। সেখানে শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ আলতাব হোসাইন জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তিনি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালতে আরও চারটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জাহিদুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের আত্মসমর্পণ করার খবরে সকাল থেকে আদালতে জড়ো হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। জামিন আবেদন নাকচ করার পর কারাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।

উল্লেখ্য, এই ৯টি মামলার মধ্যে গত বছর ৫ জানুয়ারির পর বিএনপির হরতাল অবরোধের সময় দায়ের করা হয় আটটি মামলা। আর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল। এসব মামলা দায়ের পর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মগোপনে চলে যান বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

/বিটি/টিএন/