রাবিতে ৭ দিনের মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিল চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পোষ্য কোটা সাত দিনের মধ্যে বাতিল চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন নাজিমউদ্দিন মৃধা নামের এক আইনজীবী। রাবির আইন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী এখন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) তিনি ডাকযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, রাবির উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও সিলেকশন বোর্ডের প্রধানের কাছে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। তবে সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত লিগ্যাল নোটিশ পাননি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব।

আইনজীবী নাজিমউদ্দিন বলেন, আমি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। দ্রুতই পেয়ে যাবেন। নোটিশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে বৈষম্যমূলক, বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে। যারা বিগত চার সেশনে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়ে অধ্যয়নরত, তাদের ভর্তি বাতিলে উদ্যোগ নিতে হবে ও বিগত চার সেশনের পোষ্য কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেস মার্ক দিয়ে তাদের তালিকা দিতে হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পোষ্য কোটার প্রচলন এবং একটি গোষ্ঠীকে এমন অন্যায্য অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনটি দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে না জানালে হাইকোর্টে বিভাগে রিট পিটিশন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানরা পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী নয় দাবি করে এই  আইনজীবী বলেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানরা ভালো পরিবেশ ও ভালো স্কুল-কলেজে পড়ার সুযোগ ভোগ করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিজেদের সন্তানদের অনৈতিক সুবিধা দিতে নিজেদের মাধ্যমে প্রচলিত পোষ্য কোটা চালুর ধারণাটি স্বার্থের সংঘাত নীতি এবং সংবিধান পরিপন্থি- বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সুনাম রক্ষা ও মানোন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে তা বাতিল করা উচিত। 
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবির অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এই কোটা বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। তা না হলে অনশন কর্মসূচিতে বসবেন বলে ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি একই দাবি জানান। লাইভে তিনি পোষ্য কোটা রাখতেই হলে এর নাম পরিবর্তন করে তৃতীয় লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার কোটা করার পরামর্শ দেন।

বক্তব্য দেওয়ার পর সমন্বয়কের ওপর ক্ষুব্ধ হন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চারটি সংগঠন। শনিবার রাবি অফিসার সমিতি একটি জরুরি সভা করে। এতে রাবি সহায়ক কর্মচারী সমিতি, পরিবহন টেকনিক্যাল সমিতি ও সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়নও যোগ দেয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার অফিসার সমিতি উপাচার্যের কাছে একটি চিঠি দিয়ে ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।