উত্তম সেবা দিয়ে মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূর করতে পুলিশ কাজ করছে: আইজিপি

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় রাজশাহী পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম।

প্রধান অতিথি অফিসার ও ফোর্সদের বিভিন্ন আবেদন-নিবেদন মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

সভায় আইজিপি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে হবে। সুদীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জনবান্ধব করতে এবং পুলিশের মধ্যে বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে কাজ করছে পুলিশ সংস্কার কমিশন। বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করছে।’

বাহারুল আলম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উত্তম পুলিশি সেবা দিয়ে তা দূর করতে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। যেসব পুলিশ সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হবে। পুলিশে দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠাঁই হবে না। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে। জনগণের সঙ্গে মিশে আমরা একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ এ জন্য পেশাদারিত্ব, ন্যায়পরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সারোয়ার জাহান। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহীর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার কামরুন নাহার।

কল্যাণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রেঞ্জ, আরএমপি ও রাজশাহী বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা। বিশেষ কল্যাণ সভাটি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দ্বারা সমাপ্ত হয়।

এর আগে বুধবার সকালে রাজশাহী সারদার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪০তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের মনোজ্ঞ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নতুন ক্যাডেটদের উদ্দেশে আইজিপি বাহারুল আলম বলেছেন, ‘আপনাদের সততা, স্বচ্ছতা, একাগ্রতা ও সৃজনশীল প্রতিভার প্রতি আস্থা রাখতে চায় জনগণ। বাংলাদেশ পুলিশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো সাব-ইন্সপেক্টর। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত এসআইরা করে থাকেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে রপ্তকৃত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আপনারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। মানবাধিকার রক্ষা করে জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা প্রবর্তণে আপনারা অবদান রাখবেন।’

আইজিপি বলেন, ‘অপরাধ দমন, জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা প্রদান এবং সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। কালের প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অপরাধের ধরণ ও মাত্রা। ফলে পুলিশের কর্মপরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পুলিশের আধুনিকায়নের বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবদীপ্ত অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় সদস্যরা। তাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই শহিদদের আত্মদান জাতিকে প্রেরণা জুগিয়েছে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত করে আইজিপি আরও বলেন, ‘সেবা প্রত্যাশী, অপরাধ ও নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি আপনারা দায়িত্বশীল হবেন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, শিশু ও নাগরিকদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।’

পুলিশ সংস্কার বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ বাহিনী সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন কাজ করছে। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি দল নিরপেক্ষ সংস্থায় রূপান্তরে সরকারের এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে আমরা সবাই একমত।’ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনর্নির্মাণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।