বিদেশে পালানোর সময় ছাত্র আন্দোলনে গুলিবর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তাধীন আসামি এবং পাবনা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল হাসান শাহীনকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে শাহীনকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক।
এদিকে পাবনা থেকে পুলিশের একটি দল তাকে নিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম।
আটক সোহেল হাসান শাহীন পাবনা পৌর এলাকার বালিয়াহালটের বাসিন্দা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড়ে গণঅবস্থান চলছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে সেখানে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়, প্রথমে হামলা চালান ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান ও তার সঙ্গীরা। পরে দ্বিতীয় দফায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
পরে পাবনা সদর থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হত্যা মামলা, যেখানে ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি হত্যাচেষ্টার মামলা, যেখানে ১২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। সোহেল হাসান শাহীন এই দুটি মামলারই অন্যতম আসামি।