ঢাকার উত্তরায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পাইলট তৌকির ইসলামের মরদেহ রাজশাহী পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে এসে পৌঁছায় তার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার। এরপর নেওয়া হয় উপশহর এলাকার তার বাসভবনে।
পাইলট সাগরের মেজ চাচা মতিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার (২১ জুলাই) মৃত্যুর খবর শোনার পর তার পরিবারকে ঢাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সেখানে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে রাজশাহীতে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি মরদেহবাহী গাড়িতে করে উপশহরের বাড়িতে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তার জানাজা হবে। এরপর রাজশাহীর সপুরা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে ঢাকায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলাম ওরফে সাগরের দাফনের প্রস্তুতি চলছে রাজশাহীতে। নগরীর সপুরা গোরস্থানে মঙ্গলবার সকালে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে।
স্বজনরা জানান, জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হবে জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে। জানাজা হবে বিকাল সাড়ে ৪টায়।
সাগরের বাবা তহুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। তবে প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। বর্তমানে নগরের উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরের ২২৩ নম্বর বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন তারা। সোমবার বিমান বিধ্বস্তের পর থেকেই ‘আশ্রয়’ নামের বাড়িটির সামনে প্রতিবেশী, স্বজন ও উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন।
সোমবার বিকালে বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি হেলিকপ্টারে তৌকিরের বাবা তহুরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন, মামা মোহাম্মদ আলী, ছোট বোন সৃষ্টি খাতুন ও তার স্বামী ডা. তুহিন ইসলামকে ঢাকায় নেওয়া হয়। মরদেহের সঙ্গেই তারা রাজশাহী ফেরেন।
তার স্ত্রী ঢাকায় সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তিনিও এসেছেন রাজশাহীতে। বছর খানেক আগেই বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।
তৌকির রাজশাহীর নিউ গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাবনা ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি ওই কলেজের ৩৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে।
তার মামা শওকত আলী জানান, ছোট থেকেই সাগরের স্বপ্ন ছিল পাইলট হবে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে অফিসার হবে। তবে নিজের স্বপ্নেই অটল ছিল সাগর। পড়ালেখায় ছিলেন মেধাবী। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলে। এরপর ভর্তি হয় পাবনা ক্যাডেট কলেজে, সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেয়।
মামা আরও জানান, এক বছর আগে সাগর গ্রামের বাড়ি এসেছিল। এরপর আর আসেনি।
প্রতিবেশী চাচা আবুল কাশেম জানান, তৌকির ইসলাম সাগর ও তার পরিবার বহু পূর্ব থেকেই দানশীল ও পরোপকারী। পাইলট তৌকির ইসলাম সাগরও অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিল। এখানে জন্মগ্রহণ করলেও তার বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। তবে ভুলে যায়নি এলাকার সাধারণ মানুষের কথা। যখনই এলাকার কোনও রোগী রাজশাহীতে কোনও হাসপাতালে বা ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য গেছে। সে ও তার পরিবারের সদস্যরা খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে গেছে, খোঁজখবর নিয়েছে এবং আর্থিক সহযোগিতা করেছে।
প্রতিবেশী আলাউদ্দিন, আবদুল লতিফ ও শান্তিজুল জানান, সাগরের পরিবার একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার। তারা এখানে না থাকলেও সার্বক্ষণিক এলাকার খোঁজখবর নিতেন। তিনি যথেষ্ট ধর্ম পরায়ন ছিলেন। তার বাবা তহুরুল ইসলাম ও মা সালেহা বেগম মসজিদের নামে জমি দান ও মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন।
তারা আরও জানান, ওই পরিবারে ভিটাবাড়ি ও জমিজমা থাকলেও পৈতৃক বাড়িতে কেউ বসবাস করেন না। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী ও ঢাকায় বসবাস করে আসছেন।