নির্বাচনি প্রচারণা ও রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে রাজশাহী ও নওগাঁয় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আসছেন। রাজশাহীতে হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি বিদ্যালয় মাঠে (ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে) দুপুর সাড়ে ১২টায় জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন। সমাবেশে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষজন উপস্থিত থাকবেন। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা।
একই দিন বিকাল ৩টায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। এরপর নওগাঁ এবং বগুড়ায় যাবেন। তার আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং জনগণের মাঝে বিএনপির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবেন। আশা করছি সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ বছর পর রাজশাহী আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। রাজশাহীজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাজসাজ রব। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করতে মুখিয়ে আছেন। জনসভার মাঠ প্রস্তুত থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সমাবেশে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতারা।
নওগাঁর জনসভা শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথিমধ্যে দুপচাঁচিয়া ও কাহালুতে পথসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর রাত ৮টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বগুড়াবাসীর উদ্দেশে কথা বলবেন। জনসভা শেষে সেখানে তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
বগুড়ায় গিয়ে বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহিদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল, জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। এরপর ৩০ জানুয়ারি বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর ও সাবগ্রামসহ তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ পথসভায় বক্তব্য দেবেন।
এদিন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পৃথক পৃথক পথসভা করবেন। পথসভা শেষে গাবতলীর বাগবাড়ী পিতৃভূমিতে পা রাখবেন। পরের দিন ৩১ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক হয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৪ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি জনসভা সফল করা লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছি। আশা করছি সেদিন উপজেলা থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়ে রাজশাহীতে উপস্থিত হবো।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন উর রশিদ বলেন, ‘জনসভা সফল করতে আমরা পাড়া-মহল্লায় সভা করছি। একইসঙ্গে ধানের শীষের জন্য ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় বলা আছে ১১টার মধ্যে মাদ্রাসা উপস্থিত হওয়ার। আশা করা যাচ্ছে মহানগর থেকে ৫০ হাজার কর্মী উপস্থিত থাকবে। এর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরাও থাকবে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত বলেন, ‘রাজশাহী জেলা, মহানগর, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা প্রতিটি জেলার সঙ্গে বৈঠক করেছি। এ ছাড়া উপজেলা, ইউনিয়নগুলো জনসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রচার চালানো হয়। আমরা আশা করছি পাঁচ লাখ মানুষ এই জনসভায় উপস্থিত হবে। আমাদের সময়সূচিও ঠিক করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর থেকে বাস, ট্রেন, মাইক্রোবাস করে আসবে। রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলাও একইভাবে আসবে। মহানগরের নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশ করবে। আমরা আমাদের দলের চেয়ারম্যানকে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনই উপহার দিতে চায়। এই লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দীর্ঘ ১৯ বছর রাজশাহীতে আসছেন। এর আগে ২০০৬ সালে তিনি রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে তৃণমূল বিএনপির কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি এই তিন জেলাকে কী উপহার দেবেন তা ঘোষণা করবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বিএনপি নেতকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। শুধু রাজশাহী না চাঁপাইনবাবগঞ্জের নেতাকর্মীরা বেশ উৎফুল্ল। আমরা বরাবরের মতো বিশাল সমাগম ঘটাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে শুধু বিএনপি নয়, এর অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা নিয়ে পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আমরা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখছি। ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। সমাবেশস্থল ও এর আশেপাশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ উপস্থিত থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ থাকবে। সেদিন শুধু মাঠের নিরাপত্তায় ৫০০ পুলিশ সদস্য থাকবেন। এর বাইরে আরও পুলিশ রাখা হবে।’