আগামী সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে পদ্মা ব্যারেজ ও বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষকদের আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষক যদি ভালো থাকে, তবে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।’ কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মায়েদের হাতে যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, তেমনই প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে তারা ব্যাংক ঋণ, সরকারি সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা সরাসরি পাবেন।’
বক্তব্যে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সংরক্ষণের জন্য কোনও হিমাগার নেই। আমরা এই এলাকায় আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করবো। বেকারত্ব দূরীকরণে আইটি পার্ক সচল করা ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গেলো ১৭ বছর দেশের মানুষের জন্য কোনও কাজ হয়নি। মেগাপ্রকল্পের নামে মেগাদুর্নীতি হয়েছে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও বড় হয়েছিল, কিন্তু বরেন্দ্র প্রকল্প আজ বন্ধ। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প চালু করতে চাই, খাল খনন করতে চাই, পদ্মা নদী খনন করতে চাই।’
পদ্মাপাড়ের মানুষের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন পদ্মা ব্যারেজ করার; যেটি হলে সবাই সুবিধা ভোগ করবেন বলে মন্তব্য করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেশে শান্তি চাই। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বা ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে কেউ দেখেনি কার কী ধর্ম। আজ দেশ গড়ার সময়েও আমরা ধর্ম দেখবো না। আমরা দেখব সে একজন বাংলাদেশি। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। তার আগমন ঘিরে মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জনসভা মঞ্চ থেকে তিনি রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ১৩ জন সংসদীয় প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
রাজশাহীর জনসভা শেষে তিনি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে এটিএম মাঠে বক্তব্য রাখার পর রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন।