ভোট দিলেন রাজশাহী কারাগারের ২০৪ বন্দি, দেননি আ.লীগের সাবেক দুই এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ২০৪ জন বন্দি। এই কারাগারে দুই হাজার ৬০০ জন হাজতি ও কয়েদি আছেন। তাদের মধ্যে ভোট দিতে ২৭৩ জন আবেদন ও নিবন্ধন করেন। বাকিদের কেউ যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, আবার অনেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হয়েছেন। এই কারাগারে বন্দি আছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি এনামুল হক। তবে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা ভোট দেননি। ভোট দেওয়ার জন্য তারা নিবন্ধনও করেননি।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

কারা সূত্র জানিয়েছে, বন্দিদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। বাকি অর্ধেক বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা হাজতি। কয়েদিদের একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে বন্দি আছেন। তাই তাদের অনেকে ভোটারই হতে পারেননি। এ জন্য নিবন্ধন করতে পারেননি। আবার নিয়ম রয়েছে, কেউ কারাগারের ভেতরে বন্দি থাকা অবস্থায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করার পর জামিন হলে পরে আর বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। সে কারণেও অনেক হাজতি ও কয়েদি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেননি।

নিবন্ধন করা ২৭৩ জনের মধ্যে নাম নাম-ঠিকানা ও সংসদীয় আসনসহ সব তথ্য সঠিক থাকায় ২০৪ জনের নামে ব্যালট এসেছিল। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া শুরুর পর থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত তারা ভোট দিয়েছেন। আর নাম নিবন্ধনের পর ৩২ জন জামিনে বেরিয়ে গেছেন। তাদের ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ২০৪টি ব্যালট পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘আমরা সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। যারা ইচ্ছুক তারা নিবন্ধন করেছিলেন। সাবেক দুই এমপি ভোট দিতে চাননি। আমরা তো কাউকে জোর করবো না। তারা চাননি বলে ভোট দেননি। যারা দিয়েছেন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি।’