জামানত হারিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও তিন বারের সাবেক এমপি

বগুড়ায় সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনে ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ খ্যাত নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তিনবারের সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। সাতটি আসনে এই দুই জনসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জানান, প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না।

জামানত বাজেয়াপ্তরা প্রার্থীরা হলেন-

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ১২৭ কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ জন। প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৩৫ হাজার ১৫৪টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) এ বি এম মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন, এক হাজার ২৬ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের (ডাব) আসাদুল হক পেয়েছেন, ৫৯৭ ভোট ও গণফোরামের (উদীয়মান সূর্য) জুলফিকার আলী পেয়েছেন ২৯৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ১১৫ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩টি। নাগরিক ঐক্যের (কেটলি) মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন, তিন হাজার ৪২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙল) সাবেক তিনবারের এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন, ৪৩৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) জামাল উদ্দীন পেয়েছেন, ৯১৩ ভোট, গণঅধিকার
পরিষদের (ট্রাক) সেলিম সরকার পেয়েছেন, ২৭৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র (সিঁড়ি) রেজাউল করিম তালু পেয়েছেন, ১৮৩ ভোট। প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা ছিল। বিগত চারটি নির্বাচনে তিনি কখনও জয়ের মুখ দেখেননি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি আসনে নিজ দলের মীর শাহে আলমকে প্রার্থী করেন। ক্ষুব্ধ মান্না বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থিতা রাখেন। তবে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নানা সমস্যার কারণে তিনি ঢাকা-১৮ থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। পরিবেশ না থাকাসহ নানা কারণে জাতীয় পার্টির জিন্নাহ এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান।

বগুড়া-২ আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে সামান্য ভোট পেয়ে মান্না তৃতীয় ও জিন্নাহ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবার ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হলেও এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিকটতম হয়েছেন। মান্নার শোচনীয় পরাজয় সম্পর্কে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মানুষ হিসেবে সজ্জন মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্ক ছিল না। সাংবাদিক এড়িয়ে চলেন। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও জনগণের সেভাবে মিশতে পারেননি। তাই তাকে এ অবস্থা বরণ করতে হয়েছে।

এখানে জামানত রক্ষায় ৩১ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া প্রয়োজন ছিল। সেখানে তিনি পেয়েছেন, তিন হাজার ৪২৬ ভোট। মান্না মোট বৈধ ভোটের ১.৪ শতাংশ ভোট লাভ করেছেন।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ১১৯ কেন্দ্রে মোট ভোট তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩ জন। প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৬টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) শাহজাহান আলী তালুকদার পেয়েছেন, এক হাজার ৭৮৯ ভোট ও জাতীয় পার্টির (লাঙল) শাহিনুল ইসলাম পেয়েছেন, এক হাজার ৪৯৫ ভোট। প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মোট ১১৫টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৭২ হাজার ৮৪৬টি। ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) ইদ্রিস আলী পেয়েছেন, দুই হাজার ৯৫৪ ভোট ও জাতীয় পার্টির (লাঙল) শাহীন মোস্তফা কামাল পেয়েছেন, এক হাজার ১০৭ ভোট। প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ১৮৯টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা চার লাখ ৯ হাজার ১৯৫টি। এখানে এলডিপির (ছাতা) খান কুদরত-ই-সাকলায়েন পেয়েছেন, এক হাজার ১৩৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) মীর মাহমুদুর রহমান পাঁচ হাজার ৫৫৮ ভোট ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) শিপন কুমার রবিদাস পেয়েছেন, এক হাজার ৭৮২ ভোট। একই কারণে তাদের জামানতও বাতিল হয়েছে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ১৫১ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ ভোট। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা তিন লাখ ২২ হাজার ৪৮৫টি। জেএসডির (তারা) আবদুল্লাহ আল ওয়াকি পেয়েছেন, ২৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) আবু নুমান মামুনুর রশিদ পেয়েছেন, দুই হাজার ৫০৮ ভোট ও একমাত্র নারী প্রার্থী বাসদের (মই) দিলরুবা নূরী পেয়েছেন, ৭৯৫ ভোট। কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে ১৭৪ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৯২ ভোট। এখানে প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬টি। মুসলিম লীগের (হারিকেন) আনছার আলী পেয়েছেন, ৫২৮ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন, দুই হাজার ৩৭ ভোট। তারা দুই জনও জামানত হারিয়েছেন।

বগুড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্র জানায়, সাতটি আসনে বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সাতটি আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির সাত প্রার্থী বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।