বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মেহেরুন নেছা পারুল (৩০) নামে এক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এতে তার দুই পা ভেঙে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে ঢাকা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে এ ঘটনা ঘটে।
তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান এ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরুন নেছা পারুল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দীঘির ডাঙ্গাপাড়ার মৃত ছাবের আহমেদ ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবালা গ্রামের রাকিব মোল্লার তৃতীয় স্ত্রী। তারও এটি তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর পারুল তার স্বামী রাকিব মোল্লার সঙ্গে ঢাকার কল্যাণপুর এলাকায় বসবাস করেন। রাকিব মোল্লা স্ত্রী পারুলকে বাবার বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য রবিবার রাতে ট্রেনে সান্তাহারে আসেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাকিব অন্য ট্রেনে ঢাকার দিকে চলে যান।
এদিকে মেহেরুন নেছা পারুল রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ও রেলের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে যেতে চাইলের সবাই তাকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে ট্রেনে তুলে দেন। ট্রেনটি সান্তাহারের অদূরে পৌঁওতা রেলগেটের কাছে পৌঁছলে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে যান।
এরপর তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার এসআই ফজলুর রহমান জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় পারুলের দুই পা ভেঙে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
মেয়ের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত মা মাহমুদা বেগম সোমবার বিকালে সান্তাহারে পৌঁছানোর জানান, বহু বিয়ের ঘটনায় মেয়ের সঙ্গে তিনি কোনও সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি মেয়ের তৃতীয় স্বামীর নামও তারা জানেন না।
তিনি আরও বলেন, যে মেয়ে বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করে তার সম্পর্কে আর কোনও তথ্য দিতে চাই না।
বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মেহেরুন নেছা পারুল বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মা এসেছেন। তাকে তার কাছে হস্তান্তর ও অন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।