বগুড়ার শিবগঞ্জে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তা ও রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর কাজীপাড়ায় গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
দুই নারী হত্যার ঘটনায় জনগণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বগুড়া জোনের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার শাহনাজ বেগম (৭০) ও মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর কাজীপাড়ায় বাবু সরকারের স্ত্রী মোমেনা বেগম (৭০)। মৃত আবদুল খালেক একই ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়িতে নিজ শয়ন ঘরে দুর্বৃত্তরা শাহনাজ বেগমের গলায় ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের ছেলে মাহমুদুল হাসান সজিব জানান, তিনি স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের শো-রুম পরিচালনা করেন। বাসায় তার মা এবং স্ত্রী রিয়া ছিলেন। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী রিয়ার রুম বাইরে থেকে আটকে দেয়। পাশের রুম থেকে চিৎকার শুনে রিয়া তাকে (স্বামী) ফোন করেন। এরপর বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান দুর্বৃত্তরা মা শাহনাজ বেগমের গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে রবিবার সকালে শিবগঞ্জে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর কাজীপাড়ায় বাড়িতে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে বৃদ্ধা মোমেনা বেগমের সঙ্গে স্বজনদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কিলঘুষিতে মাটিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধা মোমেনা বেগম মারা যান।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুস শুকুর জানান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের ক্লু পাওয়া গেছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই ঘাতকদের গ্রেফতার করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া বৃদ্ধা গৃহবধূ মোমেনা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।