দুই বছর আগে জামায়াতে ইসলামীর দখল থেকে মুক্ত করা হয় বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি। আদালত সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে বাড়িটি। এমনকি বাড়ির সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট উচ্ছেদেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
১৯৪৭ সালে সুচিত্রার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেম সাগর লেনে ০.২১ একর জমির উপর থাকা বাড়িটি সরকারি হেফাজতে দিয়ে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান। এরপর ওই বাড়িটি দীর্ঘ যাবৎ সরকারি হেফাজতেই ছিল। ১৯৮৭ সালে পাবনা জেলা প্রশাসন ইমাম গাজ্জালি ইন্সস্টিটিউট নামে একটি বেসরকারি গার্লস স্কুল এবং কলেজকে বাড়িটি লিজ দেয়। জামায়াতে ইসলামীর একটি ট্রাস্টি বোর্ড স্কুল ও কলেজটি পরিচালনা করত। স্কুলটি পরিচালনার সময় বাড়িটির আঙ্গিনায় থাকা নানা ফুল ও বিভিন্ন দামি গাছ সব কেটে সাবাড় করে খোলা অংশে জুড়ে কয়েকটি টিনের ঘর তোলা হয়। ছাদ ভেঙে টিনের চাল লাগানো হয়। বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ করে দোকান ঘর করা হয়। ফলে প্রধান সড়ক থেকে আড়াল হয়ে গেছে বাড়িটি।
দখলমুক্ত করে বাড়িতে একটি স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জন্য পাবনার সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে বাড়িটি দখলমুক্ত করতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই হাইকোর্ট বাড়িটি দখল মুক্ত করে এখানে সূচিত্রা সেনের স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে সরকারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপর দুই বছর পার হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুন্সী মো. মুনিরুজ্জামান জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা নির্দেশনা চেয়ে এখনও পত্র প্রেরণ হয়নি।
সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদ’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন জানান, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি জামায়াতের দখল মুক্ত করতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও আইনি লড়াই করা হয়েছে। আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িটি সুচিত্রা স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জোড় দাবি জানান তিনি।
/এসটি/