রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) বেলা ২টার দিকে নগরের আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
মাহফুজুরের বন্ধু ও ছাত্রাবাস সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তার প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ওই প্রেমিকা ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) ফোনে কল করে মাহফুজুরের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। পরে মেস ব্যবস্থাপক ও অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর দরজা খুলে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে মাহফুজুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ছাত্রাবাসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই গলায় ফাঁস দেন তিনি।
মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, চার থেকে পাঁচ বছর ধরে ওই মেয়ের সঙ্গে মাহফুজুরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি হলেও পরে সেটির সমাধান হয়েছিল। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে যোগাযোগ কমে যায়। সেই ঘটনার জেরে গলায় ফাঁস দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাপক জানান, দুপুরে তার মোবাইল নম্বরে এক ছাত্রী কল করে দ্রুত মাহফুজুরের কক্ষে যেতে বলেন। কক্ষের সামনে গিয়ে একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর দরজা খুলে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে আঘাতের চিহ্ন বা কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’
ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’