ইউপি নির্বাচন

নাটোরে আ. লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে উপেক্ষিত তৃণমূল নেতারা

নাটোরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের মত উপেক্ষা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক প্রার্থী থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়েও মানা হচ্ছে না কেন্দ্রের নির্দেশ।


তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নিজেদের ক্ষমতা পোক্ত করতে জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে অযোগ্য লোককে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করছেন। আবার কখনও টাকার জোরে ক্ষমতাধর প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন। এসব ঘটনায় জেলার তৃণমূল নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ।
বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এ খালেক পাটোয়ারী জানান, মাঝগাঁও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী নির্বাচনে বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেন নিয়ম ভেঙেছেন। নিজের মামা (বর্তমান চেয়ারম্যান) খোকন মোল্লাকে মনোনয়ন দিতে নৌকার আরেক প্রার্থী আশরাফুল আলম আশুকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করেছেন।
একই উপজেলার নগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা শামসুজ্জোহা দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ৮ নেতার যোগসাজসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেনকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন।

জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ৫নং বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের তৌহিদুর রহমান লিটন বলেন, তৃণমূল থেকে আমাকে প্রার্থী করা হলেও মামলা থাকায় কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়। আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করি। অথচ উপজেলার বহিষ্কৃত নেতা, কুখ্যাত ভুলু রাজাকারের ছেলে জালালউদ্দিনকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জালাল উদ্দিনকে ২০১১ সালে বহিষ্কার করেছিলো উপজেলা আওয়ামী লীগ। 
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আকরাম হোসেন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রেজাউল করিম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলী আজগর, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আব্দুস সামাদ ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জিয়াউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নৌকার প্রতীক রাজাকার সন্তান ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে দিয়ে নৌকার মান-সম্মান নষ্ট করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

/এমও/টিএন/