শ্বশুরবাড়িতে গভীর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা 

বগুড়ায় আতিকুর রহমান মন্ডল সাগর (৩২) নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ও বালু ব্যবসায়ীকে গভীর রাতে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। বুধবার রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০-২৫ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে এসে চাচাতো ভাইয়েরা তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাপলা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

নিহত সাগর বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শাহাদত মন্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন এবং বর্তমানে স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে চাচাতো ভাই ইসমাইল ও জুলহাসদের সঙ্গে সাগরের কোন্দল চলছিল। 

নিহতের স্বজন ও স্ত্রী জানান, বুধবার গভীর রাতে সাগরের পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ছিলেন এবং সাগর বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে স্ত্রী মারজিয়া ঘর থেকে বের হলে দেখতে পান— চাচাতো ভাই জুলহাস ও ইসমাইলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি বাহিনী টিনের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। 

সাগর জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। আশপাশের মানুষ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “সাগরকে বাঁচাতে আকুতি ও চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা আমাকেও হত্যার হুমকি দেয়। রক্তাক্ত সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে খুনিরা ধাওয়া করে ভয়ভীতি দেখায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।” 

নিহতের মা সাজেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে কুপিয়ে চরম নির্মমভাবে মারা হয়েছে। ছটফট করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সময় একটু পানির জন্য আকুতি করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। 

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, খবর পেয়ে সাগরের লাশ উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সাগরের বিরুদ্ধে পূর্বে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি রাজনীতি ও বালু ব্যবসার পাশাপাশি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের হাতেই খুন হয়েছেন। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রধান অভিযুক্ত ইসমাইলের মা শাপলা বেগমকে (৫৫) আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। অসুস্থ বোধ করায় শাপলা বেগমকে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।