১৭ বছর ধরে শতভাগ জিপিএ-৫ পাচ্ছে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা, কীভাবে

এসএসসি পরীক্ষায় টানা ১৭ বছর শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৮৩২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার নেমেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা বোর্ড থেকে প্রকাশিত গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরও এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানেই পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে ভালো ফলাফলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এবার এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলে টানা ১৭ বছর ধরে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার বিরল সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ৪৪ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পায়। এ ছাড়া ২০১১ সালে ৪৩, ২০১২ সালে ৫১, ২০১৩ সালে ৪৭, ২০১৪ সালে ৫২, ২০১৫ সালে ৫৬, ২০১৬ সালে ৫৫, ২০১৭ সালের ৫১, ২০১৮ সালের ৫০, ২০১৯ সালের ৪৫, ২০২০ সালের ৪৬, ২০২১ সালে ৫১, ২০২২ সালের ৪৬, ২০২৩ সালের ৫১, ২০২৪ সালে ৪৮ এবং ২০২৫ সালের ৪৭ জনের সবাই জিপিএ-৫ পায়।

মাঝে তিন বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এসএসসি পরীক্ষার ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলেও এসএসসি পরীক্ষা সরাসরি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর ২০২১ সালে করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই বছর শুধু তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হয়। অন্যান্য বিষয়ের ফলাফল নির্ধারণে আগের পরীক্ষার ফল ও বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২০২২ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। এ সময়েও কলেজটি শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করে।

কীভাবে সম্ভব

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নিয়মিত অধ্যয়ন, অভিজ্ঞ শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা, মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের বিকাশ নিশ্চিত করা হয়। সবার প্রতি নজর রাখা হয়। এ কারণে এমন ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আজিজুল হক জানান, ক্যাডেট কলেজগুলোতে শুধু লেখাপড়া নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খেলাধুলা অনুশীলন করা হয়। এছাড়া সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সারা দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবার প্রথম সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণের আওতায় পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাডেটরা আরও ৮ বছর আগে থেকে এভাবে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা কেন্দ্রেও তাদের মধ্যে অনেকটা দূরত্ব রেখে বসানো হয়। একটা কক্ষে মাত্র ১২-১৪ জন থাকে। তারা জানে, কেন্দ্রে গিয়ে কোনও এক্সট্রা অ্যাডভান্টেজ পাবে না। তাই তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম আজিজুল হক আরও বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় ক্যাডেট কলেজগুলো শিক্ষার্থদের শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে নৈতিক চরিত্রে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।