এক জেলার ১৩ মাদ্রাসার সবাই ফেল, নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার ১৩টি মাদ্রাসার কোনও পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার শতভাগ। এমন ফলাফলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার।

জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত শতভাগ অকৃতকার্য মাদ্রাসার তালিকা অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আল আমিন রহমুনিয়া বি. আর আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা; উল্লাপাড়া উপজেলার দক্ষিণপাড়া জররুননেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসা ও সাতবিল্লাহ দাখিল মাদ্রাসা; তাড়াশ উপজেলার সরাপপুর দাখিল মাদ্রাসা ও হামকুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা; কামারখন্দ উপজেলার চর টেংরাইল আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা এবং রায়গঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, হাসিল দাখিল মাদ্রাসা, বি.এম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা, মীরের দেউলমুড়া আর.এম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও বাসুদেবকোল শ্রী রামপুরা দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।

উল্লাপাড়ার কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসায় এবার ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

অপরদিকে, সাতবিলাহ দাখিল মাদ্রাসার ছয় জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চার জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারাও কেউ পাস করতে পারেনি।

উল্লাপাড়া উপজেলার এই তিনটি মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মনসুর ইসলাম বলেন, “এ বছর পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়া করেনি। ব্যাচটাও ভালো ছিল না। এ কারণে তারা পাস করতে পারেনি। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।”

উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিষ্ঠান তিনটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে পাঠদানের মান, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ, একাডেমিক তদারকি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও জড়িত। তাই শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার বলেন, “সিরাজগঞ্জে ১৩টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ফলাফলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

এদিকে, শতভাগ ফেল করা মাদ্রাসাগুলোর ফলাফলের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ফলাফলের বিষয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।