মেয়েকে ধর্ষণ অভিযোগে বাবার মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শেরপুরে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে (৫১) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানা পরিশোধ না করলে তার সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জনাকীর্ণ আদালতে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মারুফ হোসেন এ রায় দেন। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আসগর এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বস্তি এলাকার বাসিন্দা। তার প্রথম স্ত্রীর তালাক হয়ে যায়। এরপর তার শিশু মেয়ে (১৩) সৎ মায়ের ঘরে বাবার সঙ্গে থাকতো।

২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আবদুল খালেক তার শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির সৎ মা স্থানীয় একটি চাতালে ধান সেদ্ধ করতে গিয়েছিলেন।  বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয় খালেক।

এদিকে শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দিলে সৎ মা তাকে শাসন করেন। একপর্যায়ে শিশুটি মাকে ঘটনাটি জানায়। তবে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বাস করতে পারেননি।

এক পর্যায়ে শিশুটি বিষয়টি তার দুই সহপাঠীকে জানায়। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরে এলাকাবাসী শেরপুর থানায় জানান। এরপর শিশুর মা ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর শেরপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন টাইব্যুনালের পিপি আলী আসগর বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত একমাত্র আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার সম্পত্তি বিক্রি ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিল। আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন মামলা পরিচালনা করেন।