বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র মারধরের ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকিট কাউন্টার চালুর চেষ্টা করলেও ইন্টার্নরা তা করতে দেননি। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, তাদের চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু আছে।
মামলা ও অন্যান্য সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে বগুড়া সদরের রাজাপুর গ্রামের আবদুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মালেকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে আসামিরা চিকিৎসকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারাত্মক আহত হন। ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ভেঙে যায় এবং আজরফ ইসলামসহ কয়েকজনের শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়। হামলাকারীরা এ সময় ওয়ার্ডের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক দুই লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তারা তিনটি মোবাইল ফোন ও স্টেথোস্কোপ চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের আটক করে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন।
বুধবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবি করেন, হামলায় তাদের ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয় জনের অবস্থায় গুরুতর। তারা হামলাকারীদের গ্রেফতার, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চারদফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগদান করবেন না।
এ ঘটনায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় এ মামলা করেন। এতে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ বুধবার বিকালে ছয় জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
দুপুরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান, ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়নি। তারা বহির্বিভাগের তালা খুলে দিয়েছেন। মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানসহ অন্য চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।