কম্পিউটার দোকানে জাল এনআইডি তৈরি, ধরা মাত্রই দেড় বছরের জেল

বগুড়া মহানগরীর খান্দার গোহাইল রোডের একটি দোকান থেকে জাল জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, সিল মোহর ও পাসপোর্ট তৈরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদিসহ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ভোক্তা অধিকারসহ পৃথক ধারায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা ও দেড় বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জরিমানার টাকা তিনি পরে পরিশোধ করতে চেয়েছেন। ব্যর্থ হলে তাকে আরও দুই মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গোপনে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বাবু।

অভিযানে বগুড়া মহানগরীর খান্দার এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উল্টোপাশের সড়কে ই-পাসপোর্ট কর্নার নামক দোকানের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। সেখান থেকে জাল সনদ তৈরির কাজে ব্যবহৃত দুটি কম্পিউটারের সিপিইউ, মনিটর, প্রিন্টার, সিল ও অন্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। নগদ ৩৪ হাজার টাকা ছাড়াও অভিযানে বেশ কিছু জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, বগুড়া সিটি করপোরেশনের ইস্যু করা জন্মসনদের নকল তৈরি করা জন্মসনদ, সিটি প্রশাসক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের জাল স্বাক্ষরসহ কয়েকটি নথি পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, একজন ভুক্তভোগীর তথ্যের ভিত্তিতে ই-পাসপোর্ট কর্নারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জাল সনদ তৈরির সরঞ্জামসহ দোকানটির পরিচালককে আটক করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্মের কথা শুনলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাচ্ছিলাম না। আজ সরেজমিনে দেখা গেলো, সিভিল সার্জন এবং ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে জাল করা হয়েছে। সাধারণ একটা ফাইলে কর্মকর্তাদের নাম-স্বাক্ষর বসিয়ে এসব সনদ প্রিন্ট করা হতো। ওই ব্যক্তি গত তিন বছর ধরে সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ভোক্তা অধিকার আইনসহ পৃথক ধারায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা ও দেড় বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা তিনি পরে পরিশোধ করতে চেয়েছেন। ব্যর্থ হলে তাকে আরও দুই মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ কাজে জড়িত অপর দুই জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- বগুড়া সিটি করপোরেশনের হাট বাজার পরিদর্শক আব্দুল হাই, বগুড়া সদর থানার সহকারী পরিদর্শক আবদুল খালেক, সিটি করপোরেশনের নিয়োগ করা স্বেচ্ছাসেবক এবং গার্ডবাহিনীর সদস্যরা।