আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংঘর্ষ, নারীসহ দুই পক্ষের আহত ১০

আদালতের দেওয়া ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। এতে নারীসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় ময়লাল ও সাইফুলের মধ্যে ভিটেমাটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। জমিটি সাইফুলের স্বজনদের কাছ থেকে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছিলেন ময়লাল। তাদের নামে নামজারিও আছে। সরকার পতনের পর জমির মালিকানা দাবি করে জমিটি দখলের হুমকি দিচ্ছিলেন সাইফুল।

এ ঘটনায় ময়লাল উদ্দিন গুরুদাসপুরের দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাতেই আদালত সাইফুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। অথচ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

ময়লালের ছেলে সোহেল রানা দাবি করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও প্রতিপক্ষ সাইফুল বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন। এ কারণে তিনি গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আগামী শনিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল।

তিনি বলেন, শনিবার সকালে জমির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিচ্ছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ করে সাইফুল তার লোকজন নিয়ে হামলা চালান। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকেসহ পিটিয়ে যখম করা হয় তার পিতা ময়লাল ( ৫৫), শরীফা ( ৪৫), সুলতান ( ৪০), জাহানারা ( ৪০) ও ডাবলুকে( ৩৫)।

তিনিসহ তাদের পক্ষের ৫ জন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি  আছেন। এদের মধ্যে তার পিতা ময়লালের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় তারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতিপক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অথচ দলবল নিয়ে সেখানে বেড়া দিচ্ছিলেন ময়লাল। এ সময় তিনি ময়লালকে বেড়া দেওয়ার কাজ বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর লোকজন নিয়ে আক্রমন করেন ময়লাল।

এতে সাইদুল (৫৪), রমিজুল ( ৩৮), রফিক ( ৪৫), হাকিম (৩৮) ও বাবুলাল (৩৯) গুরুত্বর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাতপাতালে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় তারাও মামলা দায়ের করবেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। ওই জমিতেই সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলা রুজু হলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেবেন তিনি।