মাদক সেবনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) লেফটেন্যান্ট শহীদ সেলিম হলের চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী তল্লাশি অভিযান, পরবর্তী তদন্ত ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত চার শিক্ষার্থীই ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের। তাদের মধ্যে দুই জন ২১ সিরিজের এবং দুই জন ২২ সিরিজের শিক্ষার্থী।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে লেফটেন্যান্ট শহীদ সেলিম হলে মাদকবিরোধী তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতর। এ সময় একটি কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর গাঁজা সেবনের অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযানকারী দল হলে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা কক্ষটি ছেড়ে চলে যান। পরে কক্ষটি পরিদর্শন করে গাঁজা সেবনের দৃশ্যমান কোনও আলামত পাওয়া না গেলেও গাঁজার গন্ধ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের ছাত্রকল্যাণ দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ছয় শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেলেও পরবর্তী তদন্ত ও প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে চার জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রকল্যাণ দফতরের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তল্লাশি অভিযানের প্রতিবেদন, ঘটনার আলামত ও আনুষঙ্গিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শৃঙ্খলা ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, চার শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাদের বরাদ্দ করা সিট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং জারির তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ করা কক্ষ ও সিট ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতেও পাঠানো হয়েছে। ফলে সিট বাতিল ও হল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রুয়েট প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আবাসিক হলগুলোতে মাদকবিরোধী তৎপরতা ও নজরদারি জোরদারের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক পরিবেশে মাদক প্রতিরোধে নিয়মিত তল্লাশি ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।