টাকা ভাঙতি না দেওয়ায় দোকান ভাঙচুর করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহীতে টাকা ভাঙতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বারিউল ইসলাম (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে তার দোকানটি ভাঙচুর করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত বারিউল ইসলাম ওই এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পরে নগরীর চন্ডিপুর এলাকার কিছু ব্যক্তি বাকির মোড় এলাকায় মাদকসেবন করতে আসে। তারা টাকা ভাঙতি করতে বারিউল ইসলামের দোকানে যায়। তখন বারিউল ইসলাম জানিয়েছিলেন, টাকা ভাঙতি হবে না। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতিও হয়। এর জেরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র এবং পেট্রোলবোমা নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা প্রথমে বারিউল ইসলামের বাড়ির সামনে থাকা মুদি দোকানের শাটারের তালা ভাঙে। এরপর দোকানটিতে ভাঙচুর চালায়। এ অবস্থা দেখে বারিউলসহ তার পরিবারের লোকজন বেরিয়ে আসেন। তখন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এরপর হামলাকারীরা চলে গেলে বারিউলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বারিউলের ছেলে তানভীর হোসেন জানান, শনিবার রাতে তিন ব্যক্তি তাদের দোকানে ২০০ টাকার নোট ভাঙাতে আসে। পুরো টাকা ভাঙতি দিতে না পারায় তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার বাবার সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের সরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিরা আরও লোকজন নিয়ে ফিরে আসে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। সেইসঙ্গে দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। লাশ রামেক হাসপাতালের মর্গে আছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ নিয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার এজাহার দেখে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।’