রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপের কামড়ে আহত শিক্ষার্থী নূরনবী ইসলাম আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সর্পদংশন ইউনিটে (৫৮) স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার যেন অবনতি না হয়, সে জন্য রবিবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তাকে তিনটি অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত। আগামীকাল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’
কমন ক্রেইট বা কালাচ সাপের বিষের প্রভাব সম্পর্কে চিকিৎসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘কালাচ সাপের বিষ মূলত নিউরোটক্সিক। এ বিষ স্নায়ু থেকে পেশিতে সংকেত পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এতে পেশি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে প্যারালাইজড হতে পারে। তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে আইসিইউ থেকে সর্পদংশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার শরীরে ব্যথা আছে। আরও সুস্থ হওয়ার জন্য আজকেও হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এর আগে রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নূরনবী ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
এরপরে ওই কক্ষ থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি পাতি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে কমন ক্রেইট বা পাতি কালাচ সাপে দংশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নূরনবীকে সাপে দংশনের ঘটনায় রবিবার দুপুরে হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, স্নেক নেট স্থাপন, খাবারের মান উন্নয়ন, ওয়াশরুম পরিষ্কারসহ কয়েক দফা দাবি জানান। বিকালে হল সংসদ ও হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সভা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে হল প্রাধ্যক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একই হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে আরেকটি কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন কেউ সাপটির আক্রমণের শিকার না হলেও ওই ঘটনায় হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাপের আতঙ্ক দেখা দেয়।