সোনালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত, দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় চিঠি 

নাটোরে সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকদের ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। 

এই দুই কর্মকর্তা হলেন লিটন কুমার ও বিপুল কুমার পাল। তারা নাটোরে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জালিয়াতি করে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোসহ নানা অপরাধে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের সকল ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। 

২২ সেপ্টেম্বর ওই দুজন ছাড়াও নাটোরের প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার আরও তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ তিন জন হলেন এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান। এ তিন জনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অতিরিক্ত আমানত দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নাটোর উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কার্যালয় সোমবার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ব্যাংকের অডিটে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে।

সোনালী ব্যাংকের নাটোর ডিজিএম কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন কুমারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা আর বিপুল কুমার পালের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সম্প্রতি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই দুই কর্মকর্তা নাটোর থেকে বদলি হয়ে সর্বশেষ নওগাঁ জেলায় কর্মরত ছিলেন।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের সহকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নাটোরে কর্মরত থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে এসব অপকর্মে লিপ্ত হন তারা।

জানতে চাইলে নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা বলেন, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।