রাবির পরিবহন ব্যবস্থায় সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট থাকলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বাসের অচলাবস্থা, চালক ও হেলপারের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরিবহন সুবিধা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাবিতে বর্তমানে মোট ৩৮টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বাস অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সচল ২৫টি বাস দিয়েই বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা পরিচালিত হচ্ছে। এসব বাসের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছেন ১৩ জন যন্ত্রমিস্ত্রি।

এদিকে চলমান ২৫টি বাসের জন্য চালক রয়েছেন ২২ জন। আর হেলপার হিসেবে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। ফলে পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনায় জনবল সংকটও রয়েছে।

রাবির পরিবহন দফতরের চালক সুপারভাইজার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ড্রাইভার এবং হেলপার অপর্যাপ্ত আছে। কখনও কখনও আমি নিজেও ড্রাইভিংয়ে চলে যাই। দৈনিক ৭৫০ টাকা মজুরিতে দুই জন অতিরিক্ত লোক রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে আট জন কোনোরকম মজুরি ছাড়াই কাজ করছেন। এতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন করে ১০ জন হেলপার নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অ্যাডভার্টাইজমেন্টে গেছি, ১০ জন হেলপার, ১০ জন ড্রাইভার আছেন।’

নিয়োগ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে আট জনের বিনা বেতনে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘এটা নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, এ জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এটার পেপার্স দেখে ঠিক পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে এদের বিষয়ে কী হবে।’

অকেজো বাসগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘এটা যদি চলাচলের উপযুক্ত হয়, তাহলে যে নতুন টেকনিশিয়ান আসতেছে তারা ব্যবস্থা নেবে। চলাচল উপযোগী করে তোলা হবে। এই প্রজেক্টও আছে।’

তবে পরিবহন দফতরের প্রশাসক ড. আব্দুল মান্নান বিষয়টিকে বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই ভালোভাবে এগোচ্ছি। আমাদের আপাতত কোনও বড় ধরনের সমস্যা নেই। আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে পরিবহন খাতকে আরও বেশি আধুনিকায়ন করে তুলবো।’

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণেই পরিবহন ব্যবস্থায় এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হোসেন বলেন, ‘এত পুরাতন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, তবে এখনো পর্যন্ত পরিবহন ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এটি একটি কৃত্রিম সমস্যা, যা দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার অভাবে তৈরি হয়েছে। তাদের আরও দায়িত্ববান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া উচিত।’

এদিকে রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনাতেও রয়েছে চালক সংকট। বর্তমানে কর্মরত ছয় জন চালকের মধ্যে চার জনই অবসরপ্রাপ্ত এবং দুই জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন। চিকিৎসা কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নেই কোনও স্থায়ী চালক।