সাংবাদিকদের ওপর হামলা

চতুর্থবারের মতো বহিষ্কার ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান, হাসিবের হ্যাটট্রিক: ছয় নেতাকে শোকজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার তিন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে এবং একজনকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চার জন সহসভাপতিসহ ছয় জনকে শোকজ করা হয়েছে।

সোমবার (০৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   

বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বহিষ্কার হলেন সহসভাপতি আহসান হাবিব। তৃতীয়বারের মতো বহিষ্কার হলেন হাসিব হাসান। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমান ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।

অন্যদিকে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, সহ-দফতর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজুকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। 

শোকজ নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই নির্দেশনা দেন।

এর আগে রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।