রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যের কক্ষের তালা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কেটে খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে কক্ষটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সকালে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন এবং সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবিরসহ দলের নেতাকর্মীরা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘বহিরাগত কেউ উপাচার্যের কক্ষে তালা দিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার বিষয়ে যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় আমরা উপাচার্যকে বাসা থেকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছি। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনও ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ঘটনায় দলের কোনও নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে একটি কাগজে সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম এসেছে।
উপাচার্যের ভাষ্য, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি। লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি তাতে সই করেন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ গ্রেফতার দুজন হলেন- মো. আলী আকবর হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তার কক্ষে নিয়ে যান। এরপর উপাচার্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।