শিগগিরই জ্বালানি তেলের মূল্য কমতে যাচ্ছে এমন খবরে সাধারণ মানুষ আনন্দিত হলেও বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ফিলিং স্টেশনের মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দাম কমালে লোকসান হবে এমন আশঙ্কায় অধিকাংশ পাম্প মালিক ডিপো থেকে পেট্রল-ডিজেল উত্তোলন করছেন না। এ কারণে অনেক পাম্পে গত দু’দিন ধরে পেট্রল ও ডিজেল পাওয়া যায়নি। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বাধ্য হয়ে উচ্চ দরে মুদি দোকান থেকে পেট্রল-ডিজেল তেল কিনতে হয়েছে। পহেলা বৈশাখের আগে থেকেই বগুড়াজুড়ে দেখা দিয়েছে এ চিত্র।
তবে পাম্প মালিকরা দাবি করেছেন, পহেলা বৈশাখ ও শুক্রবারের দু’দিন ছুটির কারণে তেল উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) সভাপতি এমএ মোমিন দুলাল জানান, বগুড়ায় ৪০টিসহ তাদের সংগঠনের আওতায় প্রায় ৪০০টি পাম্প রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বা কমানোর আগে তেল কোম্পানি পাম্পগুলোর স্টক নিয়ে থাকে। তিনি বলেন, হঠাৎ করে মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের ঠিক হয়নি। সরকার লিটারে ১৫ টাকা কমালে এক লরিতে ২ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। তাই কোনও কোনও পাম্প মালিক ক্ষতির আশংকায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করছেন না। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও পাম্পের নাম বলতে রাজি হননি।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সরেজমিন ও ফোনে খোঁজ নিয়ে বগুড়ার অনেক পাম্পে চাহিদামতো পেট্রল বা ডিজেল পাওয়া যায়নি। শনিবার শহরতলীর বনানী এলাকায় শাহ্ সুলতান ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যায়নি। ম্যানেজার জানান, দু’দিন ছুটি থাকায় ডিজেল ফুরিয়ে গেছে। গাড়ি বাঘাবাড়ি ঘাটে গেছে; ফিরলে পাওয়া যাবে। কিন্তু এখনও এই পাম্পে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
শহরের স্টেশন রোডে মিতালী ফিলিং স্টেশনে ১০ লিটার পেট্রল চাইলে কর্মচারীরা ৪-৫ লিটার দিতে রাজি হন। নিশিন্দারা চারমাথার মেহেরা ফিলিং স্টেশন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল দিতে চায়। আবার, শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ি এলাকার নরিমেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল বারী জানান, ব্যবসায় লাভ-লোকসান থাকবেই। সরকার মূল্য কমাবে এ ভয়ে পাম্প শূন্য করা ঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, তার পাম্পে সবধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একই দাবি করেছেন, শহরতলীর ছিলিমপুরে বগুড়া ফিলিং স্টেশন ও মাটিডালির এমএইচ খান অ্যান্ড পার্টনার ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা।
বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি জানান, শহরের বাইরে ২-৩টি পাম্পে গিয়ে তার মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল পাননি। বাধ্য হয়ে তাকে অকটেন তুলতে হয়েছে। নিশিন্দারা উপশহরের শিক্ষক মাহবুব হাসান জানান, তিনি তার বাইকে শুধু পেট্রল নিতে পেরেছেন। গতকাল তার বাজাজ ডিসকভার বাইকে মুদির দোকান থেকে ১০০ টাকা লিটারে পেট্রল নিয়েছেন।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: