গ্রামের পুকুর পাড় থেকে পানকৌড়ি পাখি শিকার করছিলেন শিকারি সজীব (২৬)। এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের সময় তাকে বাধা দেন শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শিকারের এয়ারগান দিয়েই শহিদুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন সজীব।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল দশটার দিকে নাটকের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় শহিদুলকে প্রথমে নাটোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার বিয়াস গ্রামের জশমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত পাখি শিকারি সজীব হোসেনও একই গ্রামের সায়িম হোসেনের ছেলে। এ ঘটনা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সিংড়া থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত সজীব হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই এয়ারগান দিয়ে গুলি করে গ্রামের বিভিন্ন পুকুর থেকে পানকৌড়ি পাখি শিকার করেন। শুক্রবার সকালেও একটি পুকুর থেকে চারটি পানকৌড়ি গুলি করে শিকার করেন তিনি। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন সজীব। এ সময় শহিদুলকে রক্ষায় স্থানীয় লোকজনে এগিয়ে এলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত সজীব।
শহিদুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্বজনরা শহীদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর শহরের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক্স-রে করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শহিদুলের পেটে গুলি করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদুলকে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আবারও তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামের পুকুর এবং বিলের ভেতর থেকে এয়ারগান দিয়ে প্রায়ই পাখি শিকার করেন সজীব। শুক্রবার পাখি শিকারের সময় তিনি সজীবকে বাধা দেন। এতে সজীব ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তিনি আহত হয়ে পড়েন।
আহত শহিদুল ইসলামের ভাতিজা ফরিদ উদ্দিন বলেন, একটা গুলি তার চাচা শহিদুলের ডান পাঁজরের ভেতরে এখনও আছে। গুলিটা বের করার জন্য ডাক্তাররা অপারেশন করবেন। শহিদুলের অবস্থা খারাপ হয় অভিযুক্ত সজীব পালিয়েছেন। তারা হাসপাতালে থাকার কারণে থানায় যেতে পারেননি। থেকে ফিরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করবেন।
রামেক হাসপাতালে মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ বলেন, শহিদুলের বুক ও পেটের মাঝখানে ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে এক্স-রে করার পর ওই ক্ষতের ভেতরে কোনও পিলেট বা গুলি পাওয়া যায়নি। শহিদুল যেহেতু এয়ারগান দিয়ে গুলি করার কথা জানিয়েছেন, এ কারণে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আবারও এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করবেন তারা।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত সজীব হোসেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এয়ারগান দিয়ে যুবককে গুলি করার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। একটি গুলি শহিদুলের গায়ে লেগেছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্বজনেরা ব্যস্ত থাকায় থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তিনি।