বিদ্যুতের ‘গ্রাহক বান্ধব’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেন রুয়েটের দুই শিক্ষার্থী

Ruet Digital Miter Invention Photo 21.04 (2)বিদ্যুতের সঠিক বিল নিশ্চিতকরণ কিংবা গ্রাহকই বিল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। ইন্টেলিজেন্স অ্যানার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইএমএস) নামের এ প্রযুক্তির ‘স্মার্ট’ মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্ল্যান, বিদ্যুৎ অপচয় ও বিল অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুই উদ্ভাবক কে এম নাজমুল হাসান সজীব ও সর্বার্থ গোস্বামী প্রীতম। তারা রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভাবকরা জানান, নতুন এ প্রযুক্তির সুফলতা পেতে গ্রাহককে ‘স্মার্ট’ মিটার স্থাপনের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এ প্রযুক্তির বিশেষায়িত সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে। সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক মাসিক বিদ্যুৎপ্ল্যান নির্ধারণ করতে পারবেন। সে অনুযায়ী বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর লোড লিমিট করে বেধে দেওয়া খরচের মানের আশেপাশে বিল রাখবে ‘স্মার্ট’ মিটারটি। কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্র কতটুকু সময় ধরে চলছে সেটি জানা এবং যন্ত্রগুলোর ইনপুট ভোল্টেজ পরিমাপ, সেটি ওভারলোডেড কিনা তা জানা যাবে সফটওয়্যারটি দিয়ে। পাশাপাশি ঘরের এসি, ওয়াটার হিটার, লাইট, ফ্যান প্রভৃতির লোড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া বাসা কিংবা ইন্ডাস্ট্রি থেকে কী পরিমাণ ক্ষতিকর গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গত হচ্ছে এবং তা সহনীয় মাত্রায় আছে কিনা তা জানা যাবে।

উদ্ভাবকরা আরও জানান, ভোল্টেজের ওভারফ্লো বা শট সার্কিটের সময় নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে। যেকোনও অপারেটিং সিস্টেমে চালিত সফটওয়্যারটি চলতি মাসে কিভাবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে বিল তূলনামূলক কম হবে তা জানিয়ে দেবে। কম্পিউটারে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিল জানা ও বিল পে করতে পারবেন গ্রাহক। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারটিতে পিডিবির সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ অপশন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘স্মার্ট’ মিটারটি তৈরি করতে তাদের খরচ হয়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে মিটারটির উৎপাদন খরচ এক হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। তাদের দাবি, বর্তমানে বিদ্যুৎখাতে ১৫ শতাংশ নন-টেকনিক্যাল লস (অপচয়, বিদ্যুতের মিটার রিডিং-এ অনিয়ম, মিটার হ্যাকিং, বিদ্যুৎ লাইন থেকে চুরি) হয়, তা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সরকারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাঁচবে, যা দিয়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মূল গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। এতে নতুন করে আরও দুই কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনা যাবে।

/বিটি/টিএন/

আরও পড়ুন:
সিল মারার কোনও নির্বাচন হবে না: শামীম ওসমান