শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে এ দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দবিরগঞ্জের পাঠানপাড়া এলাকার ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সুমাইয়ার পরিবার বগুড়ার উপশহর এলাকায় থাকেন। তার বাবা আব্দুল করিম গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে গাইবান্ধা জেলায় কর্মরত আছেন। সুমাইয়া পাবনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তবে এই হোটেলে তিনি ঠিকানা ব্যবহার করেন পাবনা জেলার রাধানগর এলাকা।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেলের চার কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এরা হলেন, হোটেল সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম (৩৫) এবং হোটেল বয় নয়ন হোসেন (২৫), ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) ও বখতিয়ার হোসেন (৩০)।
হোটেলের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০ এপ্রিল রাত ১০টার সময় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে ওঠেন ওই দুই তরুণ-তরুণী। ব্যবসার কারণে তারা রাজশাহীতে এসেছেন বলে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হোটেলের ভাড়া পরিশোধ করেন। শুক্রবার সকালে হোটেল ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। বেলা ১২টা পর্যন্ত কেউ বের না হওয়ায় ওই কক্ষের ল্যান্ডফোনে কল করা হয়। ফোন না ধরায় বিষয়টি হোটেলের মালিককে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
বোয়ালিয়া জোনের এসি সাকলাইন জানান, সুমাইয়ার মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার মুখ বালিশ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ছিল। আর মিজানুরের লাশ মেয়েটির ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তার দুই হাতও বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার রাত ৮টার সময় বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদৎ হোসেন খান বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পবিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কেউ আসেনি। এ ঘটনায় মামলা হতে একটু সময় লাগবে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের চার কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও চেক করা হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন হোক, তা চান না প্রধানমন্ত্রী
/বিটি/এইচকে/এএইচ/