'ভোটাররা ঠিকভাবে ভোট দিতে পারছে না, তাই সিল মেরে দিচ্ছি '

sirajganj photo (3)

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পঞ্চসারটিয়া কেন্দ্রের বুথে গিয়ে দেখা যায় নৌকার এজেন্টরা প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে ১নং (পরুষ) বুথের নৌকার এজেন্ট ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ভোটাররা ঠিকভাবে ভোট দিতে পারছে না,তাই সিল মেরে দিচ্ছি।’ একই অবস্থা এই কেন্দ্রের ৫টি বুথে। এই কেন্দ্রের কোথাও ধানের শীষের কোনও অ্যাজেন্ট দেখা যায়নি। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সরেজমিন গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়।

এ বিষয়ে বুথে কর্তব্যরত পোলিং অফিসার শেখর চন্দ্র ঘোষ বলেন,‘আপনি তো এই দেশেই থাকেন, সবই বুঝেন। কিভাবে সব হচ্ছে। আমাদের কি করার আছে?’

২ নং (পুরুষ) বুথের কর্তব্যরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বেলাল হোসেন জানান, সকালে ধানের শীষের এজেন্ট এসেছিল। এখন তো তাকে দেখছি না।

৩ নং (মহিলা) বুথ গিয়ে দেখা যায় সেখানে ধানের শীষের এজেন্ট নেই। কিন্তু শারমিন সুলতানা,রেবা খাতুন ও শ্যামলী খাতুন নামে নৌকার তিন এজেন্ট দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে বুথে কর্তব্যরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রোকেয়া খাতুন বলেন, ধানের শীষের এজেন্ট সকাল থেকেই নেই। নৌকার তিনজন এজেন্টের বিষয়ে বলেন,‘এখানে শ্যামলী খাতুন মূলত নৌকার এজেন্ট। অন্যরা কিভাবে এলো বিষয়টি দেখছি।’

৪ নং বুথে ধানের শীষের এজেন্ট নেই। ঘোড়া প্রতিকের কার্ড লাগিয়ে কর্তব্যরত মিনারা খাতুন বলেন,‘আমি নৌকার এজেন্ট। তার পাশেই বসে আছেন নৌকার এজেন্ট হাসি খাতুন।’

বুথে কর্তব্যরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রমজান আলী বলেন,‘ধানের শীষের এজেন্ট সকাল থেকেই আসেনি। দুই এজেন্টের বিষয়টি দেখছি।’

আরও পাড়তে পারেন: মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে বিড়ম্বনা কাটেনি

৫ নং বুথে নৌকা ও ধানের শীষের কোনও এজেন্ট নেই। পরিচয় জানতে চাইলে ঘোড়া প্রতিকের এজেন্ট মাহমুদা খাতুন বলেন,‘আমি নৌকার এজেন্ট।’

আপনার পরিচয় পত্রে তো ঘোড়া প্রতীক এটা কিভাবে সম্ভব? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এগুলো জানি না নবীদুল ভাই  (নৌকার প্রার্থী) কার্ড করে দিয়েছি। দায়িত্ব পালন করছি।’

প্রিজাইডিং অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন,‘কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলে ভোটার সংখ্যা ১৬০৮। ধানের শীষের এজেন্ট কেন্দ্রে না এলে আমরা কি করবো।’ নৌকার অতিরিক্ত এজেন্টের বিষয়টি দেখছেন বলে তিনি জানান।

এ সব অসঙ্গতির বিষয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়েজিত সহকারী উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাবিব বলেন, ‘আমি একা মানুষ, সব কিছু কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো।’

আরও পাড়তে পারেন: শ্যাম্পুর বোতলে আধা কেজি স্বর্ণ!
এ বিষয়ে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী নবীদুল ইসলাম বলেন,এই এলাকায় বিএনপির কোনও লোক নাই,যে কারণে এজেন্টও নাই। যদি কেন্দ্রে অতিরিক্ত নৌকার এজেন্ট থেকে থাকে, সেটার ব্যর্থতা কেন্দ্রে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের।

/জেবি/