রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর দেওয়া হয়। এতে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্যে উপাচার্যকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেছে শিক্ষক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজম। দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি মৌন মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনে এসে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে যোগ দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ওই মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা আজ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সব দিকেই অবহেলিত। আজ একের পর এক শিক্ষক হত্যা করা হচ্ছে। তারপরও হত্যাকারীদের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত বড়ো একটা ঘটনা অথচ বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন না। যদি তারা আসতেন তাহলে আইনি তদন্ত আরও বেগবান হতো এবং অপরাধীরা একটা সতর্কবাণী পেতো। কিন্তু তারা সেটাও করেননি।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রকীব আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসিউল আলম বাবু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজল সিদ্দীক প্রমুখ।
এদিকে অধ্যাপক রেজাউল হত্যার বিচার দাবিতে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে বাগমারা উপজেলা শিক্ষক সমিতি।
গত শনিবার নগরীর শালবাগান এলকায় অধ্যাপক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই দিন ১২টায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। পরে সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে রবিবার ও সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন সমিতির নেতারা। অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগ রবিবার সংবাদ সম্মেলনে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: