সোমবার বিকেলে টুকুর স্ত্রী নুরুন নাহার লতা এই হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয় টুকুকে। বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) গোলাম সাকলায়েন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন, টুকুকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তিনি জানান, টুকুকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে। পিঠের দিকে যে ফুটো আছে তা তুলনামূলক ছোট। এছাড়াও বুকের হাড়ের ভেতরের অংশে গুলির জখম পাওয়া গেছে। এ থেকে বিষয়টি বোঝা যায় যে, টুকুকে পিঠের সাইড থেকে গুলি করা হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. এনামুল হক জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও দেওয়া হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যে টুকুর বিস্তারিত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। রবিবার রাত ৮টার দিকে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে আছে পরিকল্পিতভাবে জিয়াউল হক টুকুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে নয়ন নামে টুকুর এক বন্ধু রাজশাহী এসে রবিউল, তরিকুল ও জসিম নামের আরও তিন ব্যক্তিকে একত্রিত করে। এরপর তারা টুকুর অফিসে এসে তাকে গুলি করার পর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং নয়ন পালিয়ে যায়। এই চারজনসহ অজ্ঞাত আরও একজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে তরিকুল কানাডা প্রবাসী। সে যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রত্যেকটা বিমানবন্দর ও থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর রবিউল ও জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নয়ন ঢাকার মতিঝিল এলাকার বলে আমরা জেনেছি।
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লেও মামলার এজাহারে তা উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার।
আরও পড়ুন:
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও টুকুর প্রতিবেশী জামাত খান বলেন, নয়ন ঢাকার একজন পেশাদার কিলার। সে টুকুকে হত্যা করার জন্য রাজশাহীতে এসেছিলেন।
টুকুর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, রাজশাহী আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জিয়াউল হক টুকু ঢাকা থেকে আগত বন্ধু নয়নের সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। আর বাইরে রাজশাহীর রবিউল, তরিকুল ও জসিম নামে তিনজন বসে ছিলেন। তারা গুলির শব্দ পেয়ে এসে দেখে নয়ন গুলিবিদ্ধ টুকুকে ধরে বাইরে নিয়ে আসছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টুকু নিজমুখে বলেছে আমার পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে আমার গায়ে লেগেছে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, টুকুর ব্যবহৃত পিস্তলটি পড়ে আছে। ওটা থেকে একটাই গুলি বের হয়েছে। পরে নয়ন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদের কাছে ফোন করে সব স্বীকার করে কান্নাকাটি করেছেন। এজন্য প্রয়োজনে আত্মসমর্পণ করে সব স্বীকার করবেন বলেও জানিয়েছেন। তাকে ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নয়ন ঢাকার অধিবাসী। টুকুর গুলির স্থান দেখে বোঝা যাচ্ছে না, যে সে নিজের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে নাকি তাকে বাইরে থেকে গুলি করা হয়েছে কিংবা নয়ন গুলি করেছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জিয়াউল হক টুকু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ভবনে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গোলাম আম্বিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে ওই সময় গুলি ছোড়ার জন্য বোয়ালিয়া থানায় অস্ত্র আইন ও দ্রুত বিচার আইনে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নগর ভবনের সামনের ব্যবসায়ীক চেম্বারে বন্ধু নয়নের হাতে থাকা পিস্তুলের গুলিতে নিহত হন টুকু। এ ঘটনায় নগরীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
/এনএস/টিএন/আপ-এআর/