রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইএস-এর নামে দায় স্বীকার করেছিল ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’ নামের যে ওয়েবসাইটটি, সেটি খোলা হয় এ ঘটনার মাত্র এক মাস আগে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ সেই ওয়েবসাইটের সূত্র ধরেই এই হত্যার দায় আইএস স্বীকার করেছে বলে দাবি করে। তাদের উদ্ধৃত করে পশ্চিমা কয়েকটি গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ওয়েবসাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি ডোমেইনে তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেই পরিচালিত।
ভূ-রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কর্মরত সাংবাদিক শিবলী নোমান জানান, ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’ নামের যে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগসাইটের সূত্র দিয়ে সংবাদটি দিয়েছে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’, সেটি মূলত গত মাসেই শুরু হয়। এই সাইটের প্রথম পোস্ট আপলোড করা হয় গত ৪ মার্চ। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিশেষত্ব হলো, এটি ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি সাইট। ফলে কে তা পরিচালনা করছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায় না।
কাজী জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ওয়ার্ডপ্রেসে যে কেউই খুব সহজে একটি ফ্রি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করে সেখান থেকে ফ্রি টেমপ্লেটের সাহায্য নিয়ে ব্লগসাইট তৈরি করতে পারে। প্রক্রিয়াটি এতোই সহজ যে রাতারাতি তা বানিয়ে ফেলা সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, প্রায় একই সময়ে একটি বাংলা ওয়েবসাইট আইএস-এর দায় স্বীকারের এই তথ্যটি প্রকাশ করে। এই ওয়েবসাইটটির আইপি ঠিকানা ১২৪.২৮.২.২২। এটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইপি। ক্লাউডফ্লেয়ার নামের একটি আইএসপি প্রোভাইডার এই সাইটটির ডোমেইন রেজিস্ট্রার। তাদের তথ্যে দেখা যায়, এই সাইটটি নেওয়া হয় ৮ মার্চ। প্রথম কনটেন্ট আপলোড করা হয় ২২ দিন পর, ৩০ মার্চ। এর ঠিক ২২ দিন পর অধ্যাপক রেজাউল হত্যার ঘটনা ঘটে এবং সেদিনই ওই ওয়েবসাইটে দায় স্বীকারের কথিত বার্তাটি আপলোড করা হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স থেকে আইএস-এর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি এসেছে। সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কারা এখান (রাজশাহী) থেকে তথ্যগুলো পাঠালেন সেটাও খোঁজা হচ্ছে। আমেরিকা থেকে বিবৃতিটি প্রকাশিত হলেও, আমেরিকায় বসে তো কেউ আর (এই ঘটনা) দেখেনি। কেউ না কেউ এখন থেকেই তা ট্রান্সলেট করে পাঠিয়েছে। এখানে কারা এই কাজগুলো করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইএস-এর অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রমাণিত হয়নি। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় ওয়েবসাইট থেকে দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো আবার নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আমাক নিউজ এজেন্সি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি গোষ্ঠীর নিজস্ব বার্তা সংস্থা। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এই বার্তা সংস্থাটি বিশ্ব মিডিয়ার নজরে আসে। এটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে এবং ফ্রি ডোমেইন ব্যবহার করে নিজস্ব বার্তা প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে তাদের দায় স্বীকার করে থাকে। এ পর্যন্ত আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও রুশ এই চার ভাষায় বিভিন্ন দেশ থেকে আইএস সমর্থিত জঙ্গিরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে সুনিশ্চিতভাবে এগুলো আইএস জঙ্গিদেরই কাজ নাকি অন্য কোনও চরমপন্থী গোষ্ঠী তাদের নাম ব্যবহার করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখনও তা নিশ্চিত করতে পারেনি দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
/টিএন/
আরও পড়তে পারেন:
সিসিটিভি ফুটেজে তিন তরুণের চেহারা স্পষ্ট