সাদুল্লাপুরে গ্রেফতারের আতঙ্কে ৩ গ্রাম পুরুষশূন্য

গাইবান্ধা জেলাইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় আট হাজার গ্রামবাসীকে আসামি করায় গ্রেফতারের আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে সাদুল্লাপুরের তিনটি গ্রাম।
এদিকে, আসামি গ্রেফতারের নামে মধ্যরাতে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) রফিকুল ইসলাম নওশার বাড়িসহ আশপাশের আরও ১০টি বাড়িটি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, মামলার পর থেকে ধাপেরহাটের ছাইগাড়ি, গোবিন্দপুর ও ইসলামপুর গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। দিনের বেলায় নারীরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাড়িতে থাকলেও রাতে চরম আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলাকার সুইটি বেগম জানান, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে একদল পুলিশ তার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর স্বামীর অবস্থান জানতে চান। পরে স্বামীর অবস্থান না বলায় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

সাফিয়া বেগম বলেন, পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঘরে যা ছিল সবকিছু ভেঙে ফেলেছে। ঘরে একটা বাক্সতে ৫ ভরি স্বর্ণ ও এক লাখ টাকা ছিল তারা সেগুলো নিয়ে গেছে।

একই অভিযোগ করেন পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর ও ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

নওশার ছোট বোন মাধুরী বেগম জানান, অভিযানের নামে ধাপেরহাট ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নওশার দুটি ঘরের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামি গ্রেফতার করতে সেখানে পুলিশের কোনও অভিযানই হয়নি। ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা। তাদের নামে মামলা হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

ওসি আরও জানান, সরকারি কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামজীবন ভৌমিক বাদী হয়ে রবিবার বিকালে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০২/১১৯।

এছাড়াও একই রাতে সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনি কুমার দাস বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার আইন) ২০০২ এর ৪/৫ ধারায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৩/১২০।

দুটি মামলাতেই ধাপেরহাট ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান (আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) রফিকুল ইসলাম নওশাসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে তিন থেকে চার হাজার করে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে পুলিশ ১৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছেন। এই ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত লেবু মণ্ডল হত্যার ঘটনায় কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ করেননি বা কোনও মামলা দায়ের হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ধাপেরহাট ইউনিয়নের মোট ১২ ভোট কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশা এগিয়ে থাকেন। কিন্তু মধ্য নিজপাড়া ও আরাজি ছত্রগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ফলাফল উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে গিয়ে কারচুপির করা হচ্ছে, এমন গুজবে নওশার সমর্থকরা শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধাপেরহাট বাজারের ফাইভস্টার মোড় এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও মহাসড়কে শুয়ে পড়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ইউএনও, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও তাদের ওপর হামলা চালায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও গুলি করে। এসময় স্থানীয় রাজশাহী কৃষি ব্যাংকের নৈশ প্রহরী লেবু মণ্ডল মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে বজ্রাঘাতে নিহত ২

/এআর/টিএন/আপ-এআর