গাইবান্ধা জেলা কারাগার কার্যালয় সূত্র জানান, কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। কিন্তু শনিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত এখানে আছে ৮১২ জন। এদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ১৭০ জন এবং হাজতি ৬৪২ জন। মোট বন্দির মধ্যে নারী রয়েছেন ২৫ জন। সূত্রটি জানায়, ২০০ জন বন্দির নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত লোকবল দিয়ে ৭৭৯ জনের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়,গত ৯ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গাইবান্ধা জেলায় ২৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে ৬ জন, জামায়াত-শিবির সাত ও বিএনপির নেতাকর্মী চার। এই সময়ের মধ্যে অনেকে জামিনে ছাড়া পান। বর্তমান কারাগারে ৮১২ জন বন্দি আছে। অতিরিক্ত বন্দির কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষত বন্দিরা গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাদুল্লাপুর উপজেলার তরফফাজিল গ্রামের এক ব্যবসায়ী জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আমার এক বন্দি আত্মীয়কে দেখতে কারাগারে গেলে তিনি আমাকে জানান, দিনে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু রাতে ঘুমাতে পারছি না। বসে থেকে রাত কাটিয়ে দিতে হচ্ছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা অপর বন্দি জানান, আমরা রাতে পালা করে ঘুমাই। খাবার, গোসল ও প্রাকৃতিক কাজ সাড়তে ভিড় লেগে থাকে। ফলে দুই থেকে তিনদিন পরপর গোসল করতে হচ্ছে।
অপরদিকে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কারাকর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আমার এক বন্দি আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যাই। অনেক সময় অপেক্ষার পর এক কারারক্ষী ৫০ টাকা নিয়ে দেখা করতে দিলেন। শুধু আমার কাছেই নয়, যারা বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে বিশেষভাবে দেখা করতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেড়িয়ে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বন্দিদের কাছে আত্মীয় স্বজনদের খাদ্য, কাপড় ও ওষুধ পাঠাতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে নেওয়া হয়।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের কারাধ্যক্ষ (জেলার) মাসুদুর রহমান বলেন, সাধারণত ৪০০ থেকে ৫০০ জন বন্দি থাকেন। কিন্তু বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের সমস্যা হচ্ছে।
/জেবি/এইচকে/আপ-এনএস/