হিলি বন্দরে ১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৬ কোটি টাকা

হিলি স্থলবন্দরচলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-২০১৫ থেকে মে-২০১৬) হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, আমদানি কম হওয়ায় এবং লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ ও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে শুল্কায়ন করাসহ নানা জটিলতায় আমদানি কমেছে। আর এটিকেই স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায় কম হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল বোল্ডার পাথর, চিপস পাথর, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, খৈল, ভুষি, চাল, শুটকি মাছ, সেলাইমেশিন পার্টস, মোটরসাইকেল পার্টস। অপরদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা হয় রাইস ব্রান্ড ওয়েল (তুষেরতেল), সুগার ক্যান মুলাসিস (চিটাগুড়), পানির পাম্প, গার্মেন্টস ঝুট, সিনথেটিক ফিলামেন্ট ইয়ার্ন ইত্যাদি।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় চলতি  অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে গত বছরের মার্চে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১১০ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআর।
সে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে এই স্থলবন্দর থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার রাজস্বের বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, আগস্টে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, অক্টোবরে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, নভেম্বরে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার টাকা, ডিসেম্বরে ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

গত জানুয়ারিতে ৯ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকা, মার্চে ১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, এপ্রিলে ১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং মে মাসে ১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর রেজা শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফল আমদানির ক্ষেত্রে  গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করায় দু’বছর ধরে এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের ফল আমদানি বন্ধ। এছাড়া শুল্কযুক্ত বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান বিবেচনা না করে বিভিন্ন স্থলবন্দরের উচ্চতর রেফারেন্স অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করায় আমদানিকাররা এ বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমদানি বা রফতানিতে পরীক্ষণ, শুল্কায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এবং হয়রানির কারণে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. আমিনুল ইসলাম জানান, হিলি বন্দরে একটি মাত্র সড়ক হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বন্দরের ভেতর থেকে ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো বের হতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। খালি ট্রাক যাওয়ার পরে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দু’দেশের মাঝে পণ্য আমদানি রফতানি কার্যক্রম সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চালু থাকার সময় নির্ধারণ হয়েছে। দুপুর থেকে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরে বন্দরের একটি মাত্র সড়কে পণ্যজট সৃষ্টি হয়। আর বেশি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না পারায় রাজস্ব আহরণ কম হয়।

হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সুবাশ চন্দ্র কুন্ডু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ বন্দর দিয়ে খাদ্যদ্রব্য পেঁয়াজ, চাল, গম, ভুট্টা, খৈল, ভুষি জাতীয় পণ্যই বেশি আমদানি হয়। কিন্তু এসব পণ্যে তেমন শুল্কারোপ করা হয় না। ফলে রাজস্ব আদায় কম হয়।

তিনি আরও বলেন, তবে বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বাড়ায় রাজস্ব আহরণও কিছুটা বেড়েছে। বেশি শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

/এসএনএইচ/ এএইচ/

আরও খবর পড়ুন-

এমপিরা প্লট পাচ্ছেন না!