সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও পাঁচগাছি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার কয়েক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। নৌকা এবং কলা গাছের ভেলা এখন তাদের চলাচলের একমাত্র বাহন। এদিকে, যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া ও গারুহারা গ্রামের সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের নৌকায় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষগুলোর অনেকে ত্রাণ সহায়তা চাচ্ছেন। কিন্তু বন্যার্তদের মাঝে এখনও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
একই অবস্থা প্রতিবেশী এরশাদ, ছকিনা এবং মজিরনের। তারাও এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে আছেন।
একই গ্রামের ব্রহ্মপুত্র তীরের বাসিন্দা আনোয়ার জানান, চারদিকে পানি। ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার কোনও উপায় নাই। কাজও করতে পারছি না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব বিপদে আছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনও ত্রাণ পাই নাই।
তিনি আরও জানান, ঈদের আগে ভিজিএফের চাল ছাড়া বন্যা দূর্গতদের জন্য কোনও ত্রাণ দেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তার অনুরোধ জানান এই জনপ্রতিনিধি।
এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে বন্যা কবলিত এলাকাসহ সব ইউনিয়নে রিলিফের চাল দেওয়া হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য এখনও কোনও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পনির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা পর্যায়ে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ত্রাণের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেগুলো ঈদের আগে বন্টন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জিআর ও ভিজিএফ এর চাল কার্ডধারীদের মাঝে ঈদের আগেই বন্টন করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দু একদিনের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি।
আরও পড়ুন:
‘রাস্তা দখল হয়ে গেলে ফোর লেন, এইট লেন করে কোনও লাভ হবে না’
পিস্তল, চাপাতি ও বোমা হাতে দৌড়ে আসে হামলাকারীরা (ভিডিও)
একবছর আগে আর্টিজানে, এখন নিখোঁজ!
/বিটি/