দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে দেশের উত্তর প্রান্তের চার জেলার সাবেক ছিটমহলবাসীদের। আগামীকাল রবিবার থেকে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের ১০ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত টানা সাতদিন ছিটমহলগুলোতে ভোটার তালিকা তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ তথ্য জানিয়েছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার ৫৯টি ছিটমহলে রবিবার (১০ জুলাই) থেকে ভোটার তালিকায় নাম উঠাতে তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলুপ্ত ছিটবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরইমধ্যে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহকারী জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩১ জুলাই মধ্য রাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরের থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় কার্যকর করে শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির সরকার। তার আগে এসব ছিটমহলে দুই দফায় যৌথভাবে হেডকাউন্টিং (মাথা গণনা) সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এরপর ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশি ৫১টি ছিটমহল এবং বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল বিনিময় হয়। এতে বাংলাদেশ পায় ১১১টি ও ভারত পায় ৫১টি ছিটমহল। এর মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্রে নতুনভাবে যোগ হওয়া ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের মোট ৩৭ হাজার ৫৩৫ জন নাগরিক বাংলাদেশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানায়। ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হলে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার এক গেজেটের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় বিলুপ্ত ছিটবাসীদের দেশের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তসহ জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার লক্ষ্যে ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান জানান, পাটগ্রাম উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ভেতরে থাকা ভারতীয় সদ্য বিলুপ্ত ৫৫টি ছিটমহলে ৮ হাজার ৪৫৫ জন নতুন বাংলাদেশি (১৮ বছরের নিচে নয়) নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ২৫ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রত্যেক বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব নতুন বাংলাদেশি নাগরিককে ভোটার তালিকার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে।
এদিকে, হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের ভেতরের সদ্য বিলুপ্ত দুটি ছিটমহলের ৪৮৪ জন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ভেতরে বিলুপ্ত দুটি ছিটমহলের ১ হাজার ৩৬০ জন নাগরিকের মধ্যে ১৮ বছরের উপরের বয়সী নারী-পুরুষদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য হাতীবান্ধায় তিনজন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তিনজন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানান, জেলার পাটগ্রামের সাতটি ইউনিয়ন, হাতীবান্ধার একটি ও সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের ভেতরে মোট ৫৯টি বিলুপ্ত ছিলমহল রয়েছে। এরমধ্যে পাটগ্রামে ৫৫টি, হাতীবান্ধায় দুটি ও সদর উপজেলায় দুটি ছিটমহল রয়েছে। বিলুপ্ত ছিটবাসীদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রদান করে গত ১১ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিলুপ্ত ছিটবাসীদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য পাটগ্রামে ২৫ জন, হাতীবান্ধায় ৩ জন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে বলে জানান।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়ুন: জাকির নায়েক বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়, তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী