হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি কমায় বেড়েছে চালের দাম

হিলি শুল্ক স্টেশনঅতিরিক্ত শুল্কারোপ করায় হিলি বন্দর দিয়ে কমেছে ভারত থেকে চাল আমদানির পরিমাণ। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২/৩ টাকা।
জানা যায়, বাংলাদেশে ভারতের চালের চাহিদা না থাকা এবং অতিরিক্ত শুল্কারোপ করায় আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানিতে উৎসাহ পাচ্ছেন না। ফলে বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪৫/৫০ ট্রাক চাল আমদানি হতো। আর গেল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ আমদানির পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালের আমদানি পর্যায়ে সরকার দু’দফায় শুল্কারোপ করার ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমেছে।

জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুনে চালের আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ডিসেম্বরে আমদানি পর্যায়ে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়ায় সরকার। ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চালের আমদানি একেবারে কমে যায়।

বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হিলি বন্দর দিয়ে গেল অর্থবছরের (২০১৫-১৬) জানুয়ারিতে ৬৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৮০৮ মেট্রিক টন, ফেব্রুয়ারিতে ৯৮টি ট্রাকে ৩ হাজার ৫০ মেট্রিক টন, মার্চে ৩৭টি ট্রাকে ১ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন, এপ্রিলে ৮০টি ট্রাকে ২ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন, মে’তে ১০১টি ট্রাকে ২ হাজার ৪০২ মেট্রিক টন, জুনে ৩৭টি ট্রাকে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন এবং আর অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর-২০১৫) মোট ৪১৮টি ট্রাকে ১১ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। আর চলতি জুলাই মাসের ২ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে শুধুমাত্র একদিনে দুই ট্রাক চাল আমদানি হয়েছে।

অন্যদিকে, আমদানি পর্যায়ে শুল্কআরোপ না থাকায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জানুয়ারিতে ৫৮০টি ট্রাকে ১৭ হাজার ৮০৮ মেট্রিক টন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩১১টি ট্রাকে ৪০ হাজার ৪৫৫ মেট্রিক টন, মার্চে ১ হাজার ২১৪টি ট্রাকে ৩৭ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন, এপ্রিলে ৬১১টি ট্রাকে ১৯ হাজার ৯৫৪ মেট্রিক টন, মে’তে ২৭৬টি ট্রাকে ৯ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন, জুনে ১০৯টি ট্রাকে ৩ হাজার ৪৭৩ মেট্রিক টন এবং অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর-২০১৪) ৪ হাজার ১০১টি ট্রাকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৬ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল।

বাংলাহিলি বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা অনুপ কুমার বসাক জানান, অতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে আমদানি কমেছে। ফলে বাজারে দেশি জাতের চালের চাহিদা বাড়ায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে স্বর্ণা জাতের চাল পাইকারিতে ২৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৩০ টাকা, মিনিকেট ৪০ টাকা, নাজিরশাল ৩২ টাকা, মোটা চাল ২৬ টাকা, চিনিগুড়া  ৯০ টাকা, কাটারিভোগ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দু’সপ্তাহ আগে এসব চাল ২/৩ টাকা কমে বিক্রি হয়। আর খুচরা বাজারে এসব চালের দাম কেজি প্রতি আরও ২/৩ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আমদানিকারক মেসার্স টুম্পা ইন্টারন্যাশনালের সত্ত্বাধিকারী মো. মামুনুর রশীদ লেবু জানান, গত আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভাল হওয়ায় বাজারে দেশি জাতের চালের সরবরাহ বেশি। ফলে বাজারে ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। তাছাড়া ২০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোয় এখন প্রতিকেজি চাল আমদানিতে ১১ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ফলে বর্তমানে চাল আমদানিতে কোনও প্রকার মুনাফা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন চাল প্রকারভেদে ৪১০/৪৩০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হচ্ছে। শুল্ক পরিশোধের পর চালের যে দাম হওয়ার কথা তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাল আমাদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাব বলেন, আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। তবে মাঝে মধ্যে ২/৪ ট্রাক পোলাওয়ের চাল আসছে। 

/এসএনএইচ/টিএন/

/আপ: এইচকে/

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশে তৎপর ডিসি,‘নিষ্ক্রিয়’ পুলিশ