সরজমিনে জানা গেছে, লালমনিরহাটের কুলাঘাট ইউনিয়ন ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে ধরলা নদীতে দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
বন্যা কবলিত কুলাঘাটের দক্ষিণ এলাকার লোকজন বলেন, উজানের ঢলের পানির সঙ্গে আসা বালু ও পলি পড়ে ধরলার বুক ভরাট হয়ে গেছে। নদীর গভীরতা না থাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। এ কারণে নদী ভাঙন ও বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, ‘আমার এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। আমরা সরকারের ত্রাণ সহায়তা চাই না, চাই নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণ।’
একই এলাকার সোহরাব হোসেন বলেন, সোমবার রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির উঠানে বন্যার পানি। বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এ রাস্তাটি ভেঙে দক্ষিণ শিবেরকুটি এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যার পানি ঢুকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভারতীয় কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমা এলাকায় ধরলার বুকে জেগে ওঠা দরিবাস, বাদরকুটি, নাগরটারী ও দারি ধরলা চরের কয়েকশ মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও আদিতমারী উপজেলার দুরাকুটি ইউনিয়নে আশ্রায় নিয়েছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল বজলুর রহমান হায়াতী বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আশ্রয় নিতে এসেছিল। তাদের নৌকার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন।
দ্বিতীয় ধরলা সড়ক সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে আপাতত সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে লালমনিরহাট অংশের এ্যাপ্রোচ সড়কটি ২০০ মিটার ভেঙে গেছে। অবশিষ্ট অংশটি রক্ষার জন্য বাঁশের পাইলিং দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে চাল, নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হলেও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
গাইবান্ধায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি
/এসটি/আপ-বিটি/