এখনও নিমজ্জিত ডিমলার ১১টি গ্রাম

উজানের পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টি কমলেও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১১ গ্রামের বন্যা পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের ভেতর দিয়ে এখনও বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে। ফলে  ওই গ্রামগুলো টানা ২১ দিন পানির নিচে তলিয়ে আছে।  

নীলফামারীতে কমেনি তিস্তার জল, বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

এদিকে বন্যার  পানি কমলেও তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। রবিবার তিস্তার ভাঙনে চরখড়িবাড়ি ও ফরেস্টের চরের নতুন করে আরও ৬৮টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ওসব পরিবার তিস্তার ডান তীরের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ডিমলা উপজেলার তিস্তা বন্যা কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়,  তিস্তার ডান তীর ও বাম তীরের বাঁধের ৭টি স্থানে নদীভাঙন ও বন্যায় রবিবার পর্যন্ত এক হাজার ৫৬৮ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

তবে সোমবার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, তার এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবার বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছে। অপর দিকে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান তার এলাকার ২৭০ পরিবারের বসতভিটা বিলিন হয়ে বাঁধে রয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উজানের ঢল কমে যাওয়ায় তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম এখনও তিস্তার বানের পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

সেই সঙ্গে ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি ভাবে ত্রাণ সামগ্রী সহ বানভাসিদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, তিস্তা নদীর বন্যা ও ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার বিকালে তিস্তার ডালিয়ায় নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন তিস্তা বাঁধে আশ্রিত ১৮৩৫ পরিবারের মাঝে এই ত্রাণ বিতরণ করেন।

সূত্রমতে নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানো তিস্তার বাঁধে আশ্রিত ১৪৭৫ পরিবারেরর মাঝে ১৫ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ করে টাকা, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকা ৩৬০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, পিআইও নায়মা তাবাসসুম শাহ।

উপজেলা ত্রাণ শাখা জানায়, ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের তৃতীয় দফায় পাঠানো এই চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হলো। এর আগে দুই দফায় প্যাকেজ ত্রাণ হিসাবে চাল ৫ কেজি, সয়াবিন তেল এক লিটার,  ও এক কেজি করে মসুর ডাল, চিনি, চিড়া ও মুড়ি ও ১২টি করে মোমবাতি ও দিয়াশালাই এবং খয়রাতি হিসবে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছিল।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: পানি বেড়ে শিবচরে বন্যাকবলিত আরও ৫ ইউনিয়ন