কুড়িগ্রামে চর্মরোগসহ নানা দুর্ভোগে বন্যাদুর্গতরা

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নানা দুর্ভোগে দিন কাটছে বন্যা দুর্গত মানুষের। চর্ম রোগসহ পানি বাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষজন। সরকারিভাবে জেলায় ৮৫টি মেডিক্যাল টিম বন্যা দুর্গতদের জন্য কাজ করার কথা বলা হলেও, তাদের দেখা পাচ্ছেন না নদ-নদী অববাহিকার ২ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের বানভাসি মানুষেরা। এ অবস্থায় দুর্গম চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষেরা চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পানি বাহিত রোগে ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না তারা।

বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসার জন্য বসেছে বিশেষ মেডিক্যাল টিম

অন্যদিকে হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন বানভাসিরা। মেরামত করতে পারছেন না তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, জেলার ৯ উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের জন্য ৮৫টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। কিন্তু চরাঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের কাছে মেডিক্যাল টিম পৌঁছেনি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ত্রাণ তৎপরতা

এদিকে বন্যাদুর্গতের ত্রাণ সহায়তাসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলগুলোয় সহস্রাধিক বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ বিতরণ করেছেন কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

মেডিক্যাল টিমের নেতৃত্ব দেন সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার স্বপন কুমার বিশ্বাস। এসময় ১৯৯৪ ব্যাচের ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম, অ্যাপোলো ইস্পাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিঠুন বকসী, ব্যাংক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান তুষার, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জুয়েল হোসেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান অরেঞ্জ, মোশারফ হোসেন সোহেল, মাইদুল ইসলাম মুকুল, তাজুল ইসলাম, ঠিকাদার ফরিদ, ব্যবসায়ী লিটন, বসুন্ধরা সিমেন্টের কর্মকর্তা শাহিনুর আলম অপু, অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা টিটুল, অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ্, সাংবাদিক বাদশাহ্ সৈকতসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ