কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শোক র্যালিতে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে দেখা গেছে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায়। তাদের দেখে বোঝার কোনও উপায় ছিল না, এটা শোক র্যালি নাকি আনন্দ র্যালি!
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দিনভর নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে সকাল সোয়া ৯ টায় শহরের বিজয় স্তম্ভ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। এরপর এক মিনিটের নীরবতা পালন ও দোয়া মাহফিল শেষে শুরু হয় শোক র্যালি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের কলেজ মোড় সংলগ্ন বিজয় স্তম্ভ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই শোক র্যালিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় সামনের সারিতে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে দেখা যায় হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় । তাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক খান মো. নূরুর আমীনকেও দেখা গেছে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায়।
অন্যদিকে, শোক র্যালির ব্যানারে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিও নেতা-কর্মীদের অবজ্ঞায় অবমাননার শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কিছু দর্শনার্থী ও পথচারী। সামনের সারিতে থাকা চলমান নেতা-কর্মীরা ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকার বিষয়টি সেভাবে মনে না রাখায় অবচেতনেই হাঁটার তালে তাদের পা লেগে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি দোল খেতে থাকে। অথচ ব্যানারটি একটু উঁচু করে ধরলে এমন পরিস্থিতি সহজেই এড়ানো যেত।
র্যালিতে নেতা-কর্মীদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতির ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘এ ব্যাপারে আমি নেতা-কর্মীদের বলে দিয়েছি, পরবর্তীতে আর এমনটা হবে না।’
এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমীনকে ফোন করলে তিনি জানান, ‘আমি এখন একটি প্রোগ্রামে ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।’
আরও পড়ুন: শোক মিছিলে না যাওয়ায় বিআইএইচটিতে হামলা
/টিএন/আপ-এআর/